রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন, তবে উদ্ধার হয়নি গোপালের খণ্ডিত মাথা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক যুবকের মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। এদিকে হত্যার পর নিহতের মাথা এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে র্যাব ও পুলিশের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪) এবং পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)। সম্রাট বরিশালে ওষুধের ব্যবসা করেন এবং রাজু পেশাদার মাদক কারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাসকে (৪৫) মোটরসাইকেলে করে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার কাছে নিয়ে যান সম্রাট ও রাজু। সেখানে তাকে হত্যা করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন তারা। পরে পুলিশ ওইদিনই অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত গোপাল চন্দ্র দাসের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নারী ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে হত্যার পর নিহতের মাথা এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর পুলিশ র্যাবের সহায়তা চাইলে তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। ইটভাটার প্রবেশপথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেলে দুজনকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে এবং রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরের স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব–৮–এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মাদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশ ও র্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।