logo

বরগুনা/নেটওয়ার্কের বাইরে গভীর সমুদ্র, দুর্যোগের আগাম বার্তা পান না জেলেরা

নেটওয়ার্কের বাইরে গভীর সমুদ্র, দুর্যোগের আগাম বার্তা পান না জেলেরা
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মোবাইল নেটওয়ার্ক কিংবা ইন্টারনেট পরিষেবা না থাকায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না উপকূলীয় জেলা বরগুনার জেলেরা। এতে বৈরী আবহাওয়ার আগাম তথ্য, জলদস্যুদের আক্রমণ কিংবা ট্রলার বিকল হলে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয় তাদের।

কোটি টাকা মূল্যের এক একটি ট্রলার নিয়ে উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করেন জেলেরা। জেলেদের এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের যেমন মাছের চাহিদা পূরণ করে, তেমনি গতিশীল করে দেশের অর্থনীতির চাকাও। কিন্তু উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে গেলেই অকার্যকর হয়ে পড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক। এতে গভীর সমুদ্রে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন জেলেরা। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম তথ্য, জলদস্যুদের আক্রমণ কিংবা ট্রলার বিকল হলে তীরে কোনোপ্রকার যোগাযোগ করতে পারেন না তারা। এতে এক প্রকার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাদের। এমন অবস্থায় প্রতিবছর অনেক জেলে প্রাণও হারান। বরগুনায় সাগরের মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে লক্ষাধিক জেলে।

বরগুনার পাথরঘাটার অসংখ্য জেলে বঙ্গোপসাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হন। পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে ১৯৯৩ থেকে ২০২৬ সাল এই ৩৩ বছরে ১৯৯ জনের বেশি জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এরমধ্যে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ৯১ জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ও ২৪ আগস্ট বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ২৪ জন জেলে নিয়ে দুটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। তাদের ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও দুটি ট্রলারের সাতজন জেলে নিখোঁজ হন। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও অন্যদের আর সন্ধান মেলেনি।

১৯ সেপ্টেম্বর মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ কাউসারের চাচা বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হন আমার ভাইয়ের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপর্যময় ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে পরিবারের সদস্যরা।

এফবি বরকত ট্রলারের মাঝি জয়নাল মৃধা বলেন, গভীর সমুদ্রে মোবাইলের নেটওয়ার্ক থাকে না তাই ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা আমরা পাই না। সাগর উত্তাল হলে আমরা বুঝতে পারি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়তে যাচ্ছি। তখন আমরা অনুমান করে উপকূলের দিকে ফিরে আসি। ভাগ্য ভালো থাকলে নিরাপদে ঘাটে ফিরতে পারি।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, গভীর সমুদ্রে মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় সঠিক সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস না পাওয়ায় প্রতিবছর ঝড়ের কবলে পড়ে অসংখ্য জেলে মারা যায়। তাই জেলেদের জানমাল রক্ষায় সাগর কেন্দ্রিক শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, জেলেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাথরঘাটা উপজেলায় নেভিগেশন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে জেলারা যাতে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকতে পারে সে সে বিষয়ে কাজ করছেন তারা।