logo
সারা দেশে বইছে তাপপ্রবাহ

রোদে কাজের সময় জামালপুরে চার দিনে চারজনের মৃত্যু

রোদে কাজের সময় জামালপুরে চার দিনে চারজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সারা দেশের প্রায় ৫০ জেলায় তীব্র গরম অনুভুত হচ্ছে। গত কয়েক দিনের টানা তাপপ্রবাহে বেশি ভুগছেন শ্রমজীবীরা। রোদের মধ্যে কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে শুধু জামালপুরে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জেলার তিন উপজেলায় চার দিনের ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে মারা যান মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের কৃষক টুনু আকন্দ। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার মৃত সাদেক আকন্দের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, এদিন দুপুরে তীব্র রোদের মধ্যে বাড়ির পাশের জমিতে খড় শুকানোর কাজ করছিলেন টুনু আকন্দ। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আগের দিন বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকায় খড় শুকাতে গিয়ে বালি বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত ইমান আলী প্রামাণিকের স্ত্রী।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, তীব্র গরমে মাদারগঞ্জে দুই দিনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলা। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে কাজ না করার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

এর আগে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ার চর গ্রামে ধান কাটার সময় মঙ্গলবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়েন মো. সানোয়ার নামে এক শ্রমজীবী। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি ওই গ্রামের মৃত ওমের আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় রবিয়ার চর উত্তর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সোমবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাতখাওয়া গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে মারা যান আসাদুল ইসলাম। তিনি ওই গ্রামের মো. মহল মণ্ডলের ছেলে। ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে ধান কাটার কাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

এত গরম কেন

চলমান তাপপ্রবাহ আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার দেশের পাঁচ বিভাগের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। চলতি বছর এত জেলায় এক দিনে এমন তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে তাতে গরম কমার সম্ভাবনা কম।

আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছর মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেনি। সাধারণত মৌসুমি বায়ুর ঘটার পর গরমের তীব্রতা কমে আসে। শুরু বৃষ্টিপাত। গত বছর ২৫ মে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছিল। এবার এখনও মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ না ঘটায় গরমের তীব্রতা কমনোর মতো বৃষ্টি হতে দেরি হবে।

এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমান আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও গরমজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না যাওয়া ভালো। বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে হবে।