logo
Advertisement

রংপুরে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশস্থল পরিদর্শনে জামায়াত নেতারা

রংপুরে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশস্থল পরিদর্শনে জামায়াত নেতারা
রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের প্রস্তুতি ঘুরে দেখছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ ঘিরে রংপুরে প্রস্তুতি জোরদার করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এরই অংশ হিসেবে সমাপনী সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সমাবেশস্থলের সার্বিক পরিবেশ, মঞ্চ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় নেতারা সমাবেশের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক মাওলানা আব্দুল হালিমকে অবহিত করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হলে মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষা, যাতায়াত ও প্রবেশ-নির্গমন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে—সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এ টি এম আজম খান, মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, সহকারী সেক্রেটারি আল আমিন হাসান, বায়তুলমাল সেক্রেটারি মাওলানা রবিউল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুস সাত্তার শাহ ও শ্রমিক নেতা অধ্যাপক আবুল হাসেম বাদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাপনী সমাবেশকে ঘিরে রংপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যে বেশ তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

প্রথম ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। ওই কর্মসূচির পর এবার একই ধারাবাহিকতায় রংপুরকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় লংমার্চের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রংপুরের কর্মসূচিতে আগের ছয় দাবির সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের নতুন দাবিটি যুক্ত করে মোট সাতটি দাবি নির্ধারণ করা হয়।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেতাকর্মীদের জমায়েত হবে। সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সভা শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। ঢাকা থেকে রংপুরের দীর্ঘ যাত্রাপথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পথসভাগুলোতে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর লংমার্চের বহর রংপুরে পৌঁছালে জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী সমাবেশ।

সমাবেশকে সামনে রেখে রংপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশস্থলে আনা, মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারীদের নির্বিঘ্নে সমাবেশে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে জোর প্রস্তুতি চলছে।

আয়োজকরা বলছেন, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত এই লংমার্চের মাধ্যমে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। রংপুরের সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।