logo
Advertisement

উৎসমুখ বন্ধ, কোটি টাকার দখল বাণিজ্যে মৃতপ্রায় কালীগঙ্গা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
কুষ্টিয়া, খুলনা
উৎসমুখ বন্ধ, কোটি টাকার দখল বাণিজ্যে মৃতপ্রায় কালীগঙ্গা
উৎসমুখ বন্ধের পর কুষ্টিয়ার কালীগঙ্গা নদীতে জমেছে কচুরিপানা। এর মধ্যেই পাড় ঘেঁষে নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানাবিধ স্থাপনা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গড়াইয়ের বুক থেকে বেরিয়ে আসা কালীগঙ্গা এখন আর নদী নেই; দখলদারদের জন্য যেন খুলে দেওয়া হয়েছে কোটি টাকার এক বিশাল বাণিজ্যক্ষেত্র। একদিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উৎসমুখ, থামিয়ে দেওয়া হয়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। অন্যদিকে নদীর বুক কেটে খনন করা হয়েছে পুকুর, তৈরি হয়েছে মাছের ঘের ও জলাশয়; উঠেছে বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। যে নদীতে একসময় বড় নৌকা চলত, জেলেদের জীবিকা চলত, সেই কালীগঙ্গার বুক এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই কালীগঙ্গা ভরাট ও দখল করা হয়েছে। তবে গত ১৫ বছরে এই দখল বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়েছে। প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশে একটি চক্র গড়ে ওঠে, যারা নদীর বুকে পুকুর কিংবা স্থাপনা নির্মাণের জন্য ‘সেটেলমেন্ট’ করে দিতে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৫০০ দখলদারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই বর্তমানে আত্মগোপনে বা পলাতক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আবু মনি জুবায়ের রিপন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নদীর জায়গা দখল করে বিভিন্নভাবে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও দখল বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৫ আগস্টের পরও নদীর বেশ কিছু জায়গা নতুন করে দখল হয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নদী দখলের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো একটি দলের লোকজন নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই জড়িত রয়েছেন।

নদী শুকিয়েছে, মাছ কমেছে, জেলেপাড়ার মানুষ বদলেছেন পেশা। কিন্তু থামেনি নদীর জমি ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বরং পানি যত কমেছে, দখলের পরিধি তত বেড়েছে।

একসময় কালীগঙ্গার প্রস্থ ছিল প্রায় ১০০ থেকে ৩৫০ মিটার, অর্থাৎ ০.১০ থেকে ০.৩৫ কিলোমিটার। এখন অনেক অংশে তা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ৩০ মিটারে, অর্থাৎ ০.০৩ কিলোমিটারে। কোথাও নদীর মূল প্রবাহই হারিয়ে গেছে পুকুর, বাঁধ, ভরাট ও স্থাপনার নিচে।

প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর বর্তমান চিত্র যেন একটি দীর্ঘ দখলনামা। যে জায়গায় থাকার কথা পানির স্রোত, সেখানে এখন সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

কালীগঙ্গার উৎসমুখ থেকে লালন শাহের মাজার এলাকা, লাহিনী, সাওতা, কমলাপুর, পিয়ারপুর, শালঘরমধুয়া, বাঁশগ্রাম, কুশলীবাসা ও হরিনারায়ণপুর হয়ে ঝিনাইদহের দিকে নদীর বিস্তীর্ণ অংশ দখল ও ভরাটের কবলে পড়েছে।

কালীগঙ্গার উৎসমুখ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউরিয়া মহাশ্মশানের পাশে। এই মুখ দিয়েই গড়াইয়ের পানি কালীগঙ্গায় প্রবেশ করে নদীকে সচল রাখত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর আগেই উৎসমুখটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে বালু-মাটি ফেলে মুখ আরও সরু করা হয়েছে। কোথাও গড়াইয়ের তলদেশের তুলনায় উঁচু করে দেওয়া হয়েছে উৎসমুখের অংশ। ফলে বর্ষাকালেও গড়াইয়ের পানি স্বাভাবিকভাবে কালীগঙ্গায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে না।

শুধু ছেউরিয়াতেই নয়, কুমারখালীর সাওতা এলাকাতেও কালীগঙ্গার সঙ্গে গড়াইয়ের আরেকটি সংযোগপথ ছিল। সেটিও বাঁধ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ নদীর পানি ঢোকার পথ একের পর এক বন্ধ হয়েছে, আর সেই সুযোগেই নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠেছে পুকুর ও স্থাপনা।

কালীগঙ্গার উৎসমুখের কাছেই রয়েছে বাহাদুরখালী মৌজার ৩ দশমিক ৪৮৫৮ একর জলাশয়। এই জলাশয় থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব আদায় করে আসছে বলে স্থানীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিতে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই যুগে এই জলাশয় থেকে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।

উৎসমুখের পাশে বৈধ জলাশয় থেকে সরকার যখন রাজস্ব পাচ্ছে, তখন একই নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কীভাবে ব্যক্তিগত পুকুর, ঘের ও স্থাপনায় পরিণত হলো, সেই প্রশ্নই এখন সামনে।

সচেতন নাগরিক মিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে যেসব পুকুর তৈরি করে দখল করা হয়েছে, সেগুলো থেকেও রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে অন্তত সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে, যা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে।

জলাশয় থেকে রাজস্ব আদায়ের সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ নদীর জায়গা দখল করে তৈরি করা পুকুর ও স্থাপনার বিপরীতে সরকারের রাজস্ব কোথায়—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উৎসমুখ থেকে কিছু দূরেই সড়ক। সেই সড়কের ওপর ছোট একটি সেতু। কিন্তু সেতুর নিচ দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নেই। এরপরই লালন শাহের মাজারসংলগ্ন এলাকায় কালীগঙ্গার চেহারা আরও বদলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০০ সালের দিকে লালন মেলার মাঠ তৈরির জন্য নদীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভরাট করা হয়। সেখানে তৈরি করা হয় মাঠ এবং একটি জলাশয়।

স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়, ওই জলাশয় থেকেও গত দুই দশকে লালন একাডেমি কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে।

অর্থাৎ যে নদী একসময় বিনা মূল্যে মানুষের পানি, মাছ ও নৌপথের সুবিধা দিয়েছে, সেই নদীর জায়গা ভরাট করে তৈরি জলাশয় ও মাঠও পরিণত হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পদে।

এরপর রয়েছে আরও একটি জলাশয়, যেটিকে সরকারি নথিতে বাঁওড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জায়গায় জলাশয় ও আশপাশের ভরাট-দখলের ধারাবাহিকতায় কালীগঙ্গার উৎসমুখ কার্যত স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

লাহিনী বটতলা হয়ে চারাবটতলা থেকে রেললাইন, মহাসড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কালীগঙ্গার প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের পথ। নদীর কোথাও স্বাভাবিক প্রবাহ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভরা মৌসুমেও উৎসমুখে পানির উপস্থিতি নেই। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি। বৃষ্টির পানি এবং নদীর তলদেশ থেকে উঠে আসা ছোট ছোট প্রাকৃতিক জলধারাই অনেক স্থানে পানির প্রধান উৎস।

নদীর বুক কেটে কোথাও পুকুর, কোথাও বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের। কোথাও নদীর জায়গা ভরাট করে স্থাপনা। কোথাও আবার দখল করা অংশে মাছ ধরার টিকিট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

নদী যেখানে থাকার কথা, সেখানে জলাশয়; জলাশয় যেখানে থাকার কথা, সেখানে স্থাপনা। কালীগঙ্গার বুক এখন যেন দখলের মানচিত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঙ্গা দখলের পেছনে শুধু দখলদারদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশে ওই চক্র গড়ে ওঠে। নদীর জায়গায় পুকুর খনন কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দিতে ‘সেটেলমেন্ট’ করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে এভাবে লেনদেনের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

তবে এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, কারা নিয়েছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী—তা নির্ধারণে প্রয়োজন সরকারি নথি, দখলদারদের তালিকা ও আর্থিক লেনদেনের তদন্ত।

অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

কালীগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত জলাশয় ও জলমহালগুলো সরকারি সম্পদ। নিয়ম অনুযায়ী এসব জলমহাল ইজারা দিয়ে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারে। কিন্তু দখল, মামলা ও ব্যবস্থাপনা জটিলতায় কালীগঙ্গা বদলবাসা জলমহালের মতো জলাভূমিও দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক ইজারা ব্যবস্থার বাইরে ছিল।

কালীগঙ্গা বদলবাসা জলমহালের আয়তন ৬৫ দশমিক ৮৩ একর। এই জলমহাল দেশীয় মাছের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ভাই মুসা আলী খান হাইকোর্টে রিট করেন। এর ফলে এখানে ইজারা বন্ধ হয়ে যায়।

ক্ষমতার দাপট ও নানা কারসাজিতে দুই বছরের বেশি সময় জলমহালটি লিজবিহীন অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলটি দখলে রাখে বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল (বিআরটিএন) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু প্রশ্ন রেখে বলেন, এর আগে এই জলমহালটি মুসা আলী খান লিজ নিয়ে ব্যবহার করেছেন। জেলেদের কথা বলা হলেও কোনো জেলে সেখানে ছিলেন না।

সরকারি জলমহাল থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ থাকার পরও নদীর বিশাল অংশ দখল করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হলো কীভাবে?

দখলদারদের আয় হলো, মাছচাষ হলো, স্থাপনা হলো—সরকারের রাজস্ব খাতে কত টাকা জমা হলো?

কালীগঙ্গার মৃত্যু শুধু পানির সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি জনগোষ্ঠীর পেশা হারানোর ইতিহাস।

একসময় নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল জেলেপাড়া। নদীতে পানি থাকত, দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতেন। সেই মাছ বিক্রি করেই চলত সংসার।

এখন নদী শুকিয়েছে, মাছ কমেছে, দখল হয়েছে নদীর জায়গা। ফলে দুই যুগ আগেই অনেক জেলে পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় শামসুল বলেন, এই নদীকে ঘিরে অনেক জেলে ছিলেন। এখন তাঁরা আর সেই পেশায় নেই। কেউ ভ্যান চালান, কেউ কৃষিকাজ করেন।

একজন স্থানীয় জেলের ভাষায়, নদীতে পানি না থাকলে মাছ থাকবে কীভাবে? মাছ না থাকলে জেলে নদীতে যাবে কেন?

একটি নদীর মৃত্যুর সঙ্গে একটি পেশার মৃত্যুও যে কতটা গভীরভাবে জড়িত, কালীগঙ্গার জেলেপাড়া তারই উদাহরণ।

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল (বিআরটিএন) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু বলেন, নদী সরকারি সম্পদ। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। কালীগঙ্গার উৎসমুখ খুলে দেওয়া এবং দখলদারদের উচ্ছেদ করা জরুরি। তবে এ বিষয়ে তাঁরা দৃশ্যমানভাবে তেমন কোনো অগ্রগতি করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প চালু হলে পানি ধরে রাখতে কালীগঙ্গা নদীর অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয় শাহারিয়া ইমন রুবেল বলেন, গড়াইয়ের শাখা কালীগঙ্গা কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কথিত আছে, এই নদীতেই ভেসে এসেছিলেন বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ। অথচ দখল, ভরাট ও পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী কালীগঙ্গা আজ মৃতপ্রায়।

তিনি বলেন, উৎসমুখ বন্ধ করে পুকুর বানিয়ে লিজ দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে দখল এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা নদীটির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দ্রুত দখলমুক্ত, পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, কালীগঙ্গাকে আবার গড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে কুমারখালীর সাওতা বাঁধ এলাকায় বিকল্প সংযোগ স্থাপনের চিন্তা করছে সরকার।

সূত্রটির ভাষ্য, ছেউরিয়ার পুরোনো উৎসমুখ পুনরুদ্ধার করতে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে। তাই সাওতা এলাকায় বিকল্প সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

যে নদীর বুক ইতোমধ্যে পুকুর, ঘের ও স্থাপনায় ভরে গেছে, সেই দখলমুক্ত না করে পানি ঢোকানো হলে পানি কোথায় যাবে—এ প্রশ্নও থেকে যায়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, লালন মাজারসংলগ্ন জলাধারে পানির স্থায়িত্ব নিয়ে তিনি বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সন্তোষজনক উত্তর পাননি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনটি মন্ত্রণালয় কাজ করতে পারে। এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

প্রশাসনের বিভিন্ন তালিকায় কুষ্টিয়ার নদী-খাল ও জলাশয়ে বিপুলসংখ্যক দখলদারের তথ্য রয়েছে। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা যায়, জেলার নদ-নদী ও খালের বিভিন্ন অংশে অন্তত তিন হাজার দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

কারা নদীর জায়গা দখল করেছে, কত একর দখল হয়েছে, কারা পুকুর খনন করেছে, কারা স্থাপনা তুলেছে, কারা দখল বুঝিয়ে দিয়েছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কালীগঙ্গা উদ্ধারের যেকোনো পরিকল্পনাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

কালীগঙ্গার গল্প শুধু একটি নদী শুকিয়ে যাওয়ার গল্প নয়। এটি উৎসমুখ বন্ধ, নদীর জমি দখল, জলাশয় ও পুকুর তৈরি, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, রাজস্ব হারানো এবং জেলে জনগোষ্ঠীর পেশা হারানোর গল্প।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থের খরচ বিবেচনায় কুমারখালীর সাওতা থেকে গড়াইয়ের সঙ্গে সংযোগের বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে বলে কিছুটা জানতে পেরেছেন।