Advertisement
বিবির বাজার স্থলবন্দর সড়ক

ঝোপঝাড়ে ঢাকা সড়ক, উধাও সোলার লাইট

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
ঝোপঝাড়ে ঢাকা সড়ক, উধাও সোলার লাইট
সড়কের দুই পাশে গজিয়ে ওঠা আগাছা ও ঝোপঝাড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি থেকে গোমতী নদীর পাড়ঘেঁষা বিবির বাজার স্থলবন্দরের সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হলেও বর্তমানে এটি অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সড়কের দুই পাশে গজিয়ে ওঠা আগাছা ও ঝোপঝাড় দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় তা মাদক কারবারিদের আস্তানা ও মাদক লুকানোর নিরাপদ স্থানে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, কয়েক বছর আগে স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইটের অধিকাংশই অচল কিংবা উধাও হয়ে গেছে; তবে সেগুলো পুনঃস্থাপনে এখনও কোনো দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কের দুই পাশে বড় বড় আগাছা ও ঘন ঝোপঝাড় ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোপঝাড় এতটাই ঘন যে সহজে যে কোনো বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সোলার স্ট্রিট লাইটের খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোতে লাইট, ব্যাটারি কিংবা সোলার প্যানেল নেই। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়, যা পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিবির বাজার স্থলবন্দরে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী যানবাহন, স্থানীয় পরিবহন ও শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটিতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ঝোপঝাড়ে মাদক লুকিয়ে রেখে পরে সুবিধামতো সময়ে তা সংগ্রহ করে। যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের মতে এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি জোরদার করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বলেন, দ্রুত সড়কের দুই পাশের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সোলার লাইট উধাও হওয়ার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কে নতুন করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা এবং মাদকবিরোধী অভিযানসহ পুলিশ ও বিজিবির টহল বাড়ানো প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা কাজী আমান বলেন, ঝোপঝাড় দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার। এগুলো থাকলে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। তারা অপারগতা জানালে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালনা করা হবে।

সোলার স্ট্রিট লাইটের বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :কুমিল্লা