logo
Advertisement

গোয়ালঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সোহেলের মানবেতর জীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
ফরিদপুর, ঢাকা
গোয়ালঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সোহেলের মানবেতর জীবন
গোয়ালঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সোহেলের মানবেতর জীবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গরু রাখার জন্য তৈরি ছোট্ট একটি ঘর। অথচ সেই ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন সোহেল। নিজের নামে নেই এক শতক জমিও, নেই মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থায়ী ঠিকানা। অসুস্থ শরীর, স্ত্রীর দুই কিডনি নষ্ট, পরিবারে নেই কোনো স্থায়ী আয়—সব মিলিয়ে চরম অভাবের সঙ্গে প্রতিদিন কঠিন লড়াই করছে পরিবারটি।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের বাসিন্দা সোহেলের জীবনের এই করুণ বাস্তবতা সম্প্রতি সামনে এসেছে। সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট্ট ঘরটিই এখন তাদের একমাত্র সম্বল। ঘরের এক পাশে সামান্য গৃহস্থালি জিনিসপত্র, অন্য পাশে স্ত্রী ও সন্তানদের থাকার ব্যবস্থা। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দিন কাটছে তাদের।

সোহেল নিজেও গুরুতর অসুস্থ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি অকেজো হয়ে শয্যাশায়ী। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও এখন অসুস্থতার কারণে সেটিও আর সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসার ব্যয়, খাবারের অনিশ্চয়তা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিলিয়ে পরিবারটির প্রতিটি দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেই দিন কাটে। অসুস্থ শরীর নিয়ে সোহেলের পক্ষে কাজ করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই স্ত্রীর চিকিৎসা করানোর মতো কোনো সামর্থ্যও তার নেই।

এই চরম দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিষ্পাপ সন্তানদের জীবনে। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে একটি দোকানে কাজ শুরু করেছে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সেই সংসারের ভারী বোঝা কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তাকে। অন্যদিকে সাত বছরের ছোট ছেলে এখনো স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তার স্কুলে যাওয়া যেন পরিবারটির বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্নটুকু ধরে রাখার আকুল চেষ্টা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম বলেন, পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে তারা অন্তত নিরাপদে থাকার একটি ঠিকানা পেতে পারেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির এমন দুরবস্থা দেখে আসছি। সোহেল ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি একটি বসতঘর ও জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে এলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই কমতে পারে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন সোহেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র ঘুরে দেখেন।

পরিবারটির মানবেতর অবস্থা দেখে ইউএনও বলেন, সোহেলের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই, আবার আয়েরও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি দেখে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রাথমিক আর্থিক সহযোগিতা করেছি। পাশাপাশি সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের স্থায়ী জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।