ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ঢোলভাঙ্গা ও ঠুটিয়াপুকুর বাজারে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, কার্ড অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অসাধু উপায়ে চাল বিক্রি করার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে অনেক প্রকৃত দরিদ্র পরিবার কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে মহদীপুর ইউনিয়নের ঢোলভাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের এ অভিযোগ ওঠে। ওইদিন সরেজমিনে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে স্লিপ নিয়ে অপেক্ষা করছেন শত শত সুবিধাভোগী। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নেওয়ার পর নির্ধারিত ১০ কেজির কম পাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া স্লিপ নিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।
ওই এলাকার বৃদ্ধা জমিলা বেগম চাল না পেয়ে বলেন, ‘গরিব মানুষ বাবা হামরা। হামাক এনা চাউলের ব্যবস্থা করি দেও।’ চোখ ছলছল কাপা কাপা কণ্ঠে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চাল দেয় নাই। এই চাল পেলে খুব উপকার হতো।
একই এলাকার বৃদ্ধ আমজাদ আলী বলেন, স্লিপ থাকতে চাল কেমনে শেষ হলো? এখনও দুই হাজার মানুষ চাল পাননি। এই চাল গেল কই?
ওই ইউনিয়নের হবিবর রহমান, রহিম মিয়া, আয়না বেগম, আনারুল মিয়াসহ অন্তত ৫০ জন সুবিধাভোগীর একই অভিযোগ। তারা বলেন, চালের আশায় রোজা অবস্থায় সকালে লাইনে দাঁড়ান, বিকেল সাড়ে ৪টায়ও চাল পাননি।
ওই ইউনিয়নের আরেক গ্রহীতা আজিরন বেগম বলেন, স্লিপ অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও চাল পেয়েছেন ছয় কেজির মতো। অভিযোগ দিতে গেলে চেয়ারম্যান বলেন চাল ঠিকই আছে। একই কথা বলেন, ময়নুল, আয়শা, হাজেরা বেগমসহ অন্তত ১০ জন সুবিধাভোগী। তারা সবাই চাল পেয়েছেন ৫ থেকে ৬ কেজি করে।
অভিযোগের বিষয়ে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার বলেন, চাল পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। স্লিপধারী সবাই চাল পাবেন।
কিন্তু রোববার দুপুর পর্যন্ত কেউ আর চাল পাননি। পরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।