Advertisement

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আকুতি জানাতে চান প্রতিবন্ধী দুই ভাইবোন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কিশোরগঞ্জ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আকুতি জানাতে চান প্রতিবন্ধী দুই ভাইবোন
প্রতিবন্ধী দুই ভাই-বোন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ছোটবেলায় তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর স্থবির হয়ে যায় দুই ভাইবোনের স্বাভাবিক জীবন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও চরম দারিদ্র্যকে তোয়াক্কা না করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তারা। ভাই আনিছুর রহমান স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস করেছেন, আর বোন আমেনা আক্তার পড়েছেন স্নাতক (ডিগ্রি) প্রথম বর্ষে। তবে অর্থাভাবে বর্তমানে আমেনার পড়াশোনা বন্ধ। এবার নিজেদের জন্য একটি কর্মসংস্থানের তাগিদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আকুতি জানিয়েছেন এই দুই ভাইবোন।

Advertisement

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের এই দুই ভাইবোনের অনুপ্রেরণা ছিলেন তাদের মা। সন্তানদের প্রতিবন্ধকতাকে বোঝা না ভেবে কখনও কোলে, কখনও বা কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল—ছেলে চাকরি করবে, মেয়েও দাঁড়াবে নিজের পায়ে। কিন্তু ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুতে থমকে যায় সেই পথচলা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের সময় আনিছুর ও আমেনা স্বাভাবিকই ছিলেন। তবে আনিছুরের বয়স যখন পাঁচ এবং আমেনার সাত, তখন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। হাঁটাচলা কঠিন হলেও পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি।

প্রতিবন্ধী দুই ভাই-বোন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
প্রতিবন্ধী দুই ভাই-বোন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আনিছুর ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন থেকে চারশ পদে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

আনিছুর বলেন, আমার মা চাইতেন আমি যেন চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নিই। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে যেন কারও কাছে হাত পাততে না হয়— এটাই ছিল মায়ের স্বপ্ন।

মায়ের মৃত্যুর পর অসুস্থ বাবা মো. ছিদ্দিক হোসাইনের ওপর সংসারের চাপ বাড়ে। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকায় তিনি এখন আর আগের মতো ঝালমুড়ি বিক্রি করতে পারেন না। আনিছুর কম্পিউটার রিলেটেড টুকটাক কাজ করে সংসার টানার চেষ্টা করছেন।

বোন আমেনা আক্তার বলেন, মায়ের অনেক আশা ছিল আমরা সরকারি চাকরি পাব। আমাদের একটাই চাওয়া—আমরা যেন আত্মসম্মান নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।

বাবা ছিদ্দিক হোসাইন বলেন, আমার ছেলেমেয়ে প্রতিবন্ধী হলেও তারা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি চাকরির ব্যবস্থা করা হলে তারা জীবিকা চালাতে পারত।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আনিছুর জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র এক মিনিটের জন্য হলেও দেখা করতে চান। পরিবারটির প্রত্যাশা— দয়া নয়, বরং যোগ্যতা ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি বিবেচনা করে যেন তাদের একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ভাইবোন দুজন তার কাছে এসেছিলেন। সুযোগ তৈরি হলে তিনি তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।