পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১ মে) রাতে জেলা পুলিশে কর্মরত ওই কনস্টেবলের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃত মনি আক্তার রাজাপুর উপজেলার বামনকাঠি এলাকার খলিলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নূর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল। তিনি রাজাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে রাজাপুর থানায় ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মনি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবার জানায়, মনি ও নুর উদ্দিনের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। বিভিন্ন সময় টাকার জন্য মনি আক্তারকে মারধর করতেন নূর উদ্দিন। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সি একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মনি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
মনি আক্তারের বাবা খলিলুর রহমান জানান, রাতে মেয়ের জামাই নূর উদ্দিন তাকে ফোন করে বলেন, ‘আপনার মেয়ে আর নেই, দ্রুত বাসায় আসেন।’ পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেয়ের বাসায় গিয়ে দরজার হ্যাজবল লাগানো থাকলেও তালা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে ঢুকে মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ৯৯৯-এ জানায়।
মনির ভাই ওমর ফারুক জানান, বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন তারা। তাকে হত্যা করে নুর উদ্দিন পালিয়ে গেছেন। পরিকল্পিতভাবে মনি আক্তারকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।