কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে দেড় লাখ টাকায় রফা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আতিক হাওলাদার নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ না দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সালিশ বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। সালিশে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের সফি কাজির মোড় চোকদার কান্দি এলাকায় সালিশ বৈঠকটি হয় গত সাত আগস্ট। সম্প্রতি ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ার চৌকিদার, আজিজুল চৌকিদার, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল খাঁ, হাকিম মাদবর, আশরাফ উদ্দিন, নাসির মাদবরসহ কয়েকজন।
ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয় দেখিয়ে সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া আনোয়ার চৌকিদার মীমাংসার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের বংশের মেয়ে। ভবিষ্যতে বিয়ে দিতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে আমরা এক জায়গায় বসে বিষয়টি সমাধান করেছি।
সালিশে উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য জামাল খাঁ আমরা সার্বিক দিক চিন্তা করে ভালো মন নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছি। এখন যা হওয়ার হোক।
ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ করে মীমাংসা করা নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো–এমন প্রশ্নের জবাবে জামাল খাঁ বলেন, এসব আমরা বুঝি না। আমরা যেটা ভালো মনে করেছি, তাই করেছি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, আমার ঘরে চার মেয়ে। একজনের বিয়ে হয়েছে। আরও তিনজন আছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে। আমার এই মেয়েটার একটু মাথায় সমস্যা আছে। আমরা গরিব মানুষ। এলাকার মুরুব্বিরা যা করেছে, তাই মেনে নিয়েছি। এসব নিয়ে আর ঝামেলা করতে চাই না।
অভিযুক্ত আতিক হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলে যান। পরে তার ফোনে কল দিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিশোরীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত জঘন্য। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে যারা সালিশ করেছেন, তারাও অন্যায় করেছেন। তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ। ধর্ষণের ঘটনায় আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, কিশোরীর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং যারা সালিশ করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


