খুলনাকে শিক্ষা-শিল্পের নতুন কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা, দক্ষ মানব সম্পদ ও শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে খুলনাকে দেশের অন্যতম শিক্ষানগরী ও শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনার শিল্পের চাকা পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে খুলনার সেই শিল্পের চাকা আবারও ঘুরবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ের জিয়া হল চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বের সেরা জাতি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা কেউ আটকে রাখতে পারবে না।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বাংলাদেশ গড়তে আজ প্রয়োজন ভাইয়ে ভাইয়ে ঐক্য। মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে পারলেই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায়। শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। কারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের জীবনমানও উন্নত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য ড্রেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
খুলনার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে এহসানুল হক মিলন বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে বিদেশ থেকেও শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়তে আসবে। একই সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কেও দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খুলনায় বিমানবন্দর ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে খুলনাকে বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
শিল্পনগরী হিসেবে খুলনার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খুলনার শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পের চাকা আবার সচল হবে। বন্দরনগরী খুলনায় নতুন করে শিল্পায়ন হলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, খুলনাকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও শিল্পায়নের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নগরীতে কোনোভাবেই মাদককে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বৃষ্টির মধ্যেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এর আ, দুপুর তিনটা থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শিববাড়ী মোড়ের জিয়া হল চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে বিকেল থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটে। সভা শেষে নগরীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও র্যালি হওয়ার কথা থাকলেও অতিবৃষ্টির কারণে তা বাতিল করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি। বিশেষ বক্তা ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ অন্যান্য নেতারা।





