logo
Advertisement

লালনের গান নিয়ে বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন রাজবাড়ীর সূচনা

এশিয়া পোস্ট নিউজ,রাজবাড়ী
লালনের গান নিয়ে বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন রাজবাড়ীর সূচনা
শিল্পী সূচনা শেলী। ছবি : সৌজন্য

রাজবাড়ীর প্রত্যন্ত গ্রামের মাটিতে যার সংগীতের হাতেখড়ি, সেই সূচনা শেলী এবার দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। বাংলার লোক ও মরমি সংগীত, লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন এবং বাংলার মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির কথা গানের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিতব্য ৬ষ্ঠ বিশ্ব নোমেডিক গেমসের সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেবেন তিনি।

Advertisement

আগামী ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত হবে ৬ষ্ঠ বিশ্ব নোমেডিক গেমস। সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বের লোকগানের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন সূচনা শেলী। তার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তার ব্যান্ড দল ‘দিব্যজ্ঞানী’।

এর আগে, ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়ে শতাধিক দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সূচনা শেলী। প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লোকসংগীত তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামের মেয়ে সূচনা শেলীর সংগীতে হাতেখড়ি বাবার কাছে। তার বাবা জলিল সরদার ‘জলিল বাউল’ নামে পরিচিত একজন বাউলশিল্পী ছিলেন। চার বোনের মধ্যে সূচনা তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে বাউল ও লোকসংগীতের তালিম নিতে নিতে সংগীতের জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন তিনি।

লালন শাহের দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা তার সংগীতচর্চার অন্যতম ভিত্তি। তবে শুধু লালনগীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলার বিভিন্ন লোক ও মরমি ধারার গান পরিবেশন করেন সূচনা। তার পরিবেশনায় ভবা পাগলা, মনমোহন দত্ত, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম ও মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানসহ বিভিন্ন সাধক ও লোককবির গান স্থান পায়।

সূচনা শেলী বলেন, ‘বাংলার লোকসংগীতের মধ্যে শুধু সুর বা বিনোদন নেই; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, আত্মঅনুসন্ধান, মানবিকতা ও দর্শনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে আনন্দের পাশাপাশি বড় দায়িত্বের বিষয় বলে মনে করেন সূচনা। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের অভিজ্ঞতা তাঁকে এবার আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

এবারের পরিবেশনায় বাংলার মাটি ও মানুষের জীবন, লালনের মানবতাবাদী দর্শন এবং বাংলার মরমি সংগীতের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সূচনা ও তার দল। প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার পাশাপাশি বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের লোকসংগীতের স্বকীয়তা, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধি তুলে ধরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীর লক্ষ্মীকোল গ্রামের মাটিতে যার সংগীতযাত্রার শুরু, সেই সূচনা শেলী এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে। বাবার কাছ থেকে পাওয়া বাউলগানের উত্তরাধিকার সঙ্গে নিয়ে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মঞ্চে বাংলাদেশের লোকসংগীতের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত তিনি।

বিষয় :