logo
Advertisement

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুষ্টিয়া শহরে হাঁটুপানি

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুষ্টিয়া শহরে হাঁটুপানি
শহরের কোর্ট পাড়া বারো শরীফ দরবারের সামনের চিত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই কুষ্টিয়া শহরের অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও সড়কের ওপর জমেছে পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কাজে বের হওয়া মানুষ। জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টিপাত, চলে প্রায় এক ঘণ্টা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে শহরের এনএস রোড, কোর্টপাড়া, কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও সংযোগ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা, তা বুঝতে পারছিলেন না অনেক পথচারী।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীরা। পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে অনেককে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। অনেক পথচারী জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।

এদিকে জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজটেরও সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের অংশেও পানি জমে থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নিচু এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় বৃষ্টি থেমে গেলেও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থেকে যায়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ও যানবাহন চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ে।

শহরের এনএস রোডে কথা হয় পথচারী রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আজ এক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে যে হাঁটাচলা করাই কঠিন। শহরের পানি কোথায় যাবে, সেই ব্যবস্থা না করলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি নেই।

কলেজপড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বের হয়ে দেখি রাস্তার ওপর অনেক পানি। পোশাক ও জুতা ভিজে গেছে। যানবাহনও ঠিকমতো চলতে পারছে না। সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে টানা বৃষ্টি হলে কী হবে?

রিকশাচালক আব্দুল হালিম বলেন, পানির মধ্যে রিকশা চালাতে সমস্যা হচ্ছে। কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যাচ্ছে না। যাত্রীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে। শহরের আরেক বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর একই চিত্র দেখতে হয়। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহও প্রশমিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় আজ দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মোট ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আগামী দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে কুষ্টিয়া শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ফের একই ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা ও ভারী বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, আমাদের ড্রেনের কাজ চলছে। সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি সরে যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে আগামীতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।