logo
লালন তিরোধান দিবস

লালন ধামে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আসতে শুরু করেছেন সাধু-ভক্তরা

এস এম মাহফুজ উর রহমান
কুষ্টিয়া
লালন ধামে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আসতে শুরু করেছেন সাধু-ভক্তরা
লালন তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন ধামে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন ধামে (আখড়াবাড়ি) তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হচ্ছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণ ও আখড়াবাড়িতে দিন রাত চলছে ঘষামাজা, রং-তুলি ও সাজসজ্জার কাজ। মূল মঞ্চের সামনে বাঁশের খুঁটি গেড়ে তৈরি করা হচ্ছে প্যান্ডেল। একই সঙ্গে উৎসবকে ঘিরে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু-ভক্তরা। বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন দোকান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন এমন চিত্রি দেখা গেছে। আয়োজকেরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই লালনধাম পুরোপুরি উৎসবের রূপ নেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা আসতে শুরু করায় প্রতিদিনই বাড়ছে আনাগোনা।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিরোধান দিবসের আয়োজনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। মঞ্চ, সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে সাধু-ভক্ত ও দোকানিরা আসতে শুরু করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করা হবে।

লালনভক্ত সবুর বলেন, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস তাদের কাছে শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও মানবতার মিলনমেলা। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন। এবারও আগেভাগেই লালনধামে আসতে শুরু করেছেন তিনি। এখন থেকেই সেখানে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, লালন তিরোধান দিবস শুধু কুষ্টিয়ার নয়, এটি বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি আয়োজন। এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা লালনধামে সমবেত হন।

তিনি আরও বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।