পূজামণ্ডপের সামনে মাতলামি, পুলিশের তাড়া খেয়ে পালালেন যুবক

মদ্যপ অবস্থায় হাতে ধারালো হাসুয়া নিয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপের সামনে মাতলামি করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশের তাড়া খেয়ে নিজের গেঞ্জি ও হাসুয়া ফেলে পাশের খালের পানিতে নেমে পালিয়ে যান তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়ছড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পালিয়ে যাওয়া ওই যুবকের নাম ইমরান খান (৩৫)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জলিল খানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান খান প্রায়ই মাদক সেবন করেন। তার বিরুদ্ধে বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে ইমরান খান মদ্যপ অবস্থায় ধারালো হাসুয়া নিয়ে পূজামণ্ডপের সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়। পরে বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের আহমদ তাকে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় ইমরান হাসুয়া ও গায়ের গেঞ্জি ফেলে পাশের খালের পানিতে নেমে পালিয়ে যান।
বড়ছড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, বিকেলে একটি কাজে পূজামণ্ডপের বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে শুনেছি, আমাদের গ্রামের ইমরান খান নামের এক যুবক মদ খেয়ে ধারালো হাসুয়া নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি হাসুয়া ও গায়ের গেঞ্জি ফেলে পালিয়ে যান।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জুবায়ের আহমদ বলেন, হাসুয়া বা কিরিচের মতো একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে মন্দিরের সামনের সড়কে পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, তিনি মদ খেয়ে মাতলামি করছিলেন। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটক করার চেষ্টা করার সময় এক হাতে কিরিচ এবং অন্য হাতে তার গেঞ্জির কলার ধরেছিলাম। এ সময় তিনি কিরিচ ও গেঞ্জি ফেলে পালিয়ে যান। পরে সেগুলো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জমা দিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি।
বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আরেফীন বলেন, ইমরান খান নামের এক যুবক শুক্রবার বিকেলে পূজামণ্ডপের সামনের সড়ক দিয়ে হাসুয়া নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি পালিয়ে যান। পুলিশ তার হাসুয়াটি জব্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর করা একটি অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইমরানের স্বজনেরা জানিয়েছেন, হাসুয়াটি তার চাচা হান্নানের। ঘাস কাটার জন্য ধারালো করে নেওয়া ওই হাসুয়া তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন বলে তারা জানিয়েছেন। তার চাচাকে ডাকা হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
