ধর্ষণের পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয় শিশুর লাশ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আলামত গোপন করতে শিশুটির লাশ নিজ বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর মাটির নিচ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম (৩৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টায় তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন সে পৌঁছায়নি। এরপর আশপাশের পুকুর ও নালায় তল্লাশি চালিয়েও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরবর্তীকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে চরলোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বসতঘরের মাটি খুঁড়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করা হলে অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, জামিলুলের মেয়ের সহপাঠী ছিল শিশুটি। ঘটনার দিন জামিলুলের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ভুক্তভোগী শিশুটি তাদের ঘরে খেলতে গেলে তাকে ধর্ষণের পর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে জামিলুল। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ নিজের ঘরের মেঝেতেই মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।
ভাগনি হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির মামা বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়ার মতো না। আল্লাহ গো, এর বিচার কী হবে? আপনারা সর্বোচ্চ ফাঁসির রায় দেবেন, কিন্তু তা তো কার্যকর করবেন না! কিছুদিন আগে দুই খুনের আসামির শুধু রায়ই হয়েছে, কিন্তু ফাঁসি এখনো কার্যকর হয়নি।’
মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, গ্রেপ্তার জামিলুল শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশ ও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তার জামিলুলকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


