logo

পাশের বাড়িতে বিয়ে, বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে চলে গেলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

পাশের বাড়িতে বিয়ে, বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে চলে গেলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা
নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী ডুমুরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাত্র দুটি ক্লাস নেওয়ার পরই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে ভবনে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী ডুমুরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়টি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্কুল ছুটি দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যথারীতি পাঠদান শুরু হয় এবং শিক্ষকরা মাত্র দুটি ক্লাস নেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ভবন তালাবদ্ধ করে চলে যান শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

স্কুলের এক ছাত্র জানায়, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকেই স্যাররা বিদ্যালয় বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো শিক্ষকদের দায়িত্ব। কোনো সামাজিক বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছামতো বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এভাবে আকস্মিক ছুটি দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আলাউদ্দিন আকন জানান, সকালে শিক্ষকরা স্কুলে গিয়েছিলেন। তবে পাশের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় দুটি ক্লাস নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন। শিক্ষকরা ওই অনুষ্ঠানে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকই ওই অনুষ্ঠানে যাবেন না, এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মিত্রের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা শুনতে পাচ্ছেন না বলে সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল আলম বলেন, ক্লাস চলাকালীন এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা বা নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।