logo

রাঙামাটিতে চাহিদার শীর্ষে ‘রেড চিটাগং’ গরু

রাঙামাটিতে চাহিদার শীর্ষে ‘রেড চিটাগং’ গরু
পাহাড়ি গরু। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঈদুল আজহার আর বাকি কয়েক দিন। রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার হাটগুলোতে চলছে পশু কেনাবেচা। পাহাড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে লালনপালন করার কারণে ক্রেতাদের চাহিদার তুঙ্গে রয়েছে পাহাড়ি গরু।

জেলার হাটগুলোতে বিভিন্ন জাতের গরু তোলা হলেও ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পাহাড়ি দেশি গরু। যা ‘রেড চিটাগং’ হিসেবে পরিচিত। নজরকাড়া রঙে এই জাতের গরু দেখতে যেমন সুন্দর, চর্বিমুক্ত হওয়ায় এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও কম।

আশপাশের পাহাড়ি পল্লির উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব গরু নিয়ে হাটে আসেন বিক্রেতারা। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তবে হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তবে এখনও শহরের একমাত্র হাটে নেই পর্যাপ্ত পশু।

জেলার কাউখালী, কাপ্তাই, লংগদু, বাঘাইছড়ির হাটগুলোর একই চিত্র। যদিও বিশেষ বৈশিষ্টের কারণে রাঙামাটির গরু সবার নজর কেড়েছে। এখানকার কোনো গরুই খামারে পালন করা হয় না। প্রাকৃতিক পরিবেশে পাহাড়ের লতাপাতা ও ঘাস খেয়ে বেড়ে ওঠে। ফলে এসব গরুর মাংসে চর্বি একদমই হয় না। মাংসের স্বাদও আলাদা বলে জানালেন বিক্রেতারা। হাটগুলোতে জেলার বাইরে থেকেও ক্রেতারা ভিড় করছেন। পশুর দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা বিক্রেতা দু’পক্ষের মধ্যে।

সুবলং ইউনিয়ন থেকে গরু নিয়ে এসেছেন খামারি মঙ্গল কুমার চাকমা। তিনি বলেন, আমি সবসময় দেশি জাতের গরু লালনপালন করি এবং প্রতি বছর বোটে করে গরু এনে এই হাটে বিক্রি করি। এই গরুগুলোর চাহিদা ভালো থাকায় বেশ ভালো দামে বিক্রি করতে পারি।

বিক্রেতার মো, নাছির উদ্দিন ও মো. কামাল হোসেন বলেন, রাঙামাটির জেলায় যেসব পশুর হাট হয়েছে প্রতিটিতেই পাহাড়ি গরুই বেশি। এখানকার গরুগুলো উন্মুক্ত পরিবেশে ও লাতা-পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং এসব গরুর মাংসে চর্বি হয় না বললেই চলে। ফলে চট্টগ্রামসহ আশপাশের অনেক জেলা থেকে ক্রেতারা আসেন এসব গরু কিনতে। কেনাবেচা এখন পর্যন্ত ভালো বলছেন তারা।

কাউখালীর গরুর হাটে কোরবানির জন্য গরু কিনতে আসা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর চাহিদার কারণে দাম বেশি। যা গত বছর মাঝারি গরুগুলো ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার পাওয়া যেত, তা এবছর ৭০ হাজার থেকে এক লাখে বিক্রি হচ্ছে। বড় গরুগুলো এক লাখের ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা মো. ইব্রাহিম বলেন, ঘুরে ঘুরে দেখেছি। দামে হয়ে গেলে নিয়ে নেব। যেহেতু এখনও সময় আছে তাই একটু অপেক্ষা করছি। দাম ও পছন্দ হলে আজই নিয়ে নিতে পারি।

কাউখালী গরুর হাটের ইজারাদার মো. বাবুল মিয়া বলেন, বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো। কেনাবেচাও ভালো হচ্ছে। উপজেলার ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে ক্রেতারা যেমন আসছেন বিক্রেতারও আসছেন। হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

কাউখালী প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. প্রেমা মহাজন বলেন, হাটে কোনো অসুস্থ পশু যাতে বাজারে আসতে না পারে তার জন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। অসুস্থ পশু পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে খামারিদের পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, কোরবানির ঈদ সাসনে রেখে জেলার ১০ উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট রয়েছে। জেলায় গরু কোরবানির জন্য চাহিদা আছে ৪৪ হাজার, প্রস্তুত আছে ৫৩ হাজার গরু। চাহিদার তুলনায় পশু বেশি প্রস্তুত থাকলেও বিশেষ বৈশিষ্টের কারণে সব বিক্রি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন এই কর্মকর্তা।