তিতাস গ্যাস ফিল্ডে গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু

দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে তিতাস গ্যাস ফিল্ডে গভীর অনুসন্ধান কূপ (তিতাস-৩১) খনন শুরু হয়েছে। পেট্রোবাংলার আওতাধীন সর্ববৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস ফিল্ড এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে খননকাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান।
বর্তমানে বিজিএফসিএলের অধীনে মোট চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন, দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন, সাতটি কূপের ওয়ার্কওভার ও হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা ফিল্ডে ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সাইসমিক জরিপ চলমান রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির সঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট প্রায় ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রায় ২১০ দিনের মধ্যে খননকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া তিন হাজার ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে গ্যাসের উপস্থিতি, বিস্তৃতি এবং রিজার্ভ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত জরুরি। তিতাস-৩১ কূপ খনন কার্যক্রম সফল হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হবে; যা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিতাস ফিল্ডের গভীর স্তরে থাকা সম্ভাব্য গ্যাস রিজার্ভ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

