logo
Advertisement

নাটোরে ৪২৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নাটোর
নাটোরে ৪২৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
নাটোরের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চিত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নাটোরের অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজেদের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন ভারপ্রাপ্তরা। দ্রুত প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও।

Advertisement

শহরের ফুলবাগান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপংকর কুমার দত্ত বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক হয়েও আমাকে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে পাঠদান ব্যাহত হয়। তাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানাচ্ছি।

একই ভোগান্তির কথা জানান উপরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তার।

তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন আমাকে ছয়টি ক্লাস নিতে হয়, আবার প্রধান শিক্ষক হিসেবে মিটিং ও দাপ্তরিক কাজে বাইরেও যেতে হয়। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছি না। সরকারের কাছে দাবি—দ্রুত পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের এই কষ্ট লাঘব করা হোক।

মছিরেন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা সুলতানা জানান, আগের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই পদটি খালি। দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে কঠিন মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। জরুরি প্রশাসনিক কাজে বাইরে গেলে অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ পড়ে।

ফুলবাগান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মৌসুমী জেসমিন জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় তার ক্লাস ও পরীক্ষার দায়িত্ব অন্যান্য শিক্ষকদের ভাগ করে নিতে হয়। এতে বাকিদের ওপর কাজের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়।

নেপালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাইজুল বারী চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করলেও সহকর্মীদের নির্দেশ দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন। প্রশাসনিক মিটিং ও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শিক্ষকেরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

অভিভাবকেরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। শিক্ষকদের একাংশের অবহেলা এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবে অভিভাবকেরা কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন। কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রাথমিকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে দাবি জানান তারা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, জেলায় ৭৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২৯টিতেই বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদ পূরণ করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিষয় :