কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই, প্রধান আসামি নিয়ে প্রশ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে নাম আসা এক জামায়াত নেতাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি দাবি-প্রতিদাবিতে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রধান আসামি মুহাম্মদ খাজা আহমেদের নির্দেশে সংঘবদ্ধ একদল লোক দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলায় পীর শামীম জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তবে ঘটনার পর থেকেই মামলার প্রধান আসামি খাজা আহমেদ তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া শহরে সংবাদ সম্মেলন করে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, মামলাটি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তাদের দাবি, দলীয় কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে এ ঘটনার সংশ্লিষ্টতা নেই এবং জনপ্রিয়তার কারণেই খাজা আহমেদকে টার্গেট করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় অন্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার উপস্থিতি ছিল, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তারা।
এদিকে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী পৃথক বিবৃতিতে আবারও দাবি করেছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং স্থানীয়ভাবে আকস্মিকভাবে ঘটেছে। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে দরবারে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। পাশাপাশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, হামলায় জড়িত অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে। ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ফিলিপনগর এলাকায়। পরদিন শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পরিস্থিতি পুলিশের নজরে আসে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ওই দিন সকাল থেকেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল। কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।