কক্সবাজারে এবার পুলিশ পরিচয়ে কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয় ডাকাত দল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদের বাপের পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়জুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়জুল আলমের মেজো ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ বর্তমানে কুমিল্লা জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ বলেন, একদল সশস্ত্র লোক আমার বাড়ির দরজায় এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। তারা বলে উঠেন, ‘আপনাদের বাড়িতে আসামি আছে দরজা খুলুন। বাড়ির সবাই ঘুমে ছিলেন। পুলিশ পরিচয় শুনে কেউ-কেউ জেগে উঠেন।
তিনি বলেন, কথা বলার সময় দরজা খানিকটা খোলা পেয়ে তারা ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঘটনার সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনের স্বামী ছিলেন। তিনি বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি ফেনী জেলা কারাগারের কারারক্ষী।
মুস্তাহিদ জানান, ডাকাতের হাতে অস্ত্র দেখে তার বোনের স্বামী বুঝতে সেগুলো সরকারি অস্ত্র নয়। তিনি দ্রুত নারী সদস্যদের নিরাপদে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। তারা বাড়ির প্রতিটি কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করতে থাকে। প্রায় ২৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে তান্ডব চালিয়ে ডাকাতরা চার জোড়া স্বর্ণের কানের দোল, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
মুস্তাহিদের বাবা ফয়জুল আলম বলেন, তিনজন অস্ত্রধারী আমার বাড়িতে প্রবেশ করে। আরও চার-পাঁচজন বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল। তারা সবকিছু লুট করে দ্রুত সময়ে বাড়ি ত্যাগ করে চলে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম। ফাঁড়ির পরিদর্শক শওকত হোসেন জানান, রাতে ডিউটিতে থাকা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ডাকাতদের ধরতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এর আগে গত ৮ জুন রাত আড়াইটার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এক বাড়িতে ডাকাতির পর গৃহকর্তার স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
একই রাতে কদ্দার ছড়া এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে ডাকাত দল প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবানসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
এ ছাড়া ঈদুল আজহার আগের দিন একই ওয়ার্ডের অলির বাপের পাড়ায় ডাক্তার জাফর আলমের বাড়িতে চুরি এবং পরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনাও এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান জানান, কারারক্ষীর বড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ বলেন, কারারক্ষীর বাড়িতে তিনজনের প্রবেশের খবর পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



