Advertisement

যশোরে এসএসসিতে যমজ দুই বোন পেলেন জিপিএ-৫

এশিয়া পোস্ট নিউজ
যশোরে এসএসসিতে যমজ দুই বোন পেলেন জিপিএ-৫
যমজ বোন অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

জন্ম থেকেই পাশাপাশি। একই ঘরে বেড়ে ওঠা, একই উঠানে খেলা আর একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পথে হাঁটা। পড়াশোনার টেবিলেও ছিল পাশাপাশি বসা। একজন বই খুললে অন্যজনও বই নিয়ে বসত, একজন কোনো কঠিন বিষয় বুঝতে না পারলে অন্যজন তা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। এভাবেই শৈশব থেকে কৈশোর—জীবনের প্রতিটি বাঁকে একে অপরের ছায়াসঙ্গী হয়ে বেড়ে উঠেছে যমজ দুই বোন অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস।

Advertisement

সেই পথচলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এসএসসি পরীক্ষাতেও তাদের আলাদা করতে পারেনি। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই অর্জন করেছে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫। একই সঙ্গে দুই বোনের এমন সাফল্যে যশোর সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের পরিবারটিতে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে।

ফল প্রকাশের পর স্বজনদের অভিনন্দন, প্রতিবেশীদের প্রশংসা আর বাবা-মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি—সব মিলিয়ে পরিবারটিতে এখন উৎসবের আমেজ।

অঙ্কিতা ও অনুসূয়ার বাবা অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস এবং মা অঞ্জলী রাণী। সন্তানদের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। তাদের কাছে দুই মেয়ের এই জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য আর স্বপ্নের সুন্দর প্রতিদান।

ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের পড়াশোনার মূল সঙ্গী ছিল একে অপর। প্রতিযোগিতা ছিল, তবে সেই প্রতিযোগিতায় ছিল না কোনো হিংসা; বরং একজন ভালো করলে অন্যজনও আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পেত। কোনো অধ্যায় কঠিন মনে হলে দুজন মিলে তা সহজ করার চেষ্টা করত। পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়ার সময়ও ক্লান্তি এলে একজন অন্যজনকে উৎসাহ জোগাত।

এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই বন্ধন আরও গভীর হয়। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ভয় কিংবা ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা—সবকিছুই তারা পরস্পর ভাগ করে নিয়েছে। একজনের আত্মবিশ্বাস কমে গেলে অন্যজন হয়ে উঠেছে ভরসার মাধ্যম। ফলে পরীক্ষার হল থেকে শুরু করে ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত পাশাপাশি ছিল দুই বোন।

বাবা অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দুই মেয়ের ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছে। আমরা চাই, তারা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করুক।

দুই বোনের সাফল্যে আনন্দিত মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, অঙ্কিতা ও অনুসূয়া অত্যন্ত নিয়মিত ও মনোযোগী শিক্ষার্থী ছিল। ক্লাসের পড়া তৈরি করা, শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তাদের আন্তরিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের এই জোড়া সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা জোগাবে।