ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এতে ঈদের আগের দিনগুলোতে দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, যানজট নিরসন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই সড়ক দিয়ে দেশের ২৪টি জেলার মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, উত্তরবঙ্গগামী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় চন্দ্রা, মির্জাপুর, গোড়াই, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আশেকপুর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ছে। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও পশুবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো কোথাও দীর্ঘস্থায়ী যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
যাত্রীরা জানান, এলেঙ্গা ওভারব্রিজ এলাকায় এবং মহাসড়কের কিছু অংশে চার লেনের কাজ অসমাপ্ত থাকায় যানজটের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া পশুবাহী ট্রাক চলাচলে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পরিবহনচালকেরাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, কোরবানির ঈদে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এর সঙ্গে সড়ক উন্নয়নকাজের ধীরগতিও যোগ হওয়ায় এলেঙ্গা এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে, যাতে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের জন্য ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩৪ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা।
