logo
Advertisement

রংপুরে ৪ খুন/খুনের রাতে তিন দফায় ইয়াবা কেনেন সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,রংপুর
খুনের রাতে তিন দফায় ইয়াবা কেনেন সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ (লাল চিহ্নিত)। ছবি : গণমাধ্যম থেকে পাওয়া

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাদক কারবারের অভিযোগ থাকা শান্ত দাস। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছিলেন। এ সময় সিদ্ধার্থ ৩৫০০ টাকার বিনিময়ে তার কাছে মোবাইল ফোন বন্ধক রেখেছিলেন বলে আদালতকে জানান শান্ত।

Advertisement

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে শান্ত দাস এ জবানবন্দি দেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শান্ত জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট রাতে তিন দফায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ পাঁচটি ইয়াবা কিনেছিলেন। সিদ্ধার্থ তার কাছে ৩৫০০ টাকায় মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে ইয়াবা নেন। পরদিন বিকেলে টাকা পরিশোধ করে মোবাইল ফোনটি ফেরত নেন তিনি। ওই টাকা গণপতি চক্রবর্তীর বাসা থেকে লুট করা হয়েছিল বলে শান্ত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, শান্ত দাসের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ থাকলেও তার নামে কোনো মামলা নেই। তাকে আটকের সময়ও কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, শান্ত দাসসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে সীমান্ত দাস ও বিদ্যুৎ বাসের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরের কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চারজনকে হত্যার ঘটনায় পরদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। একই দিন বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরদিন রাতে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বর্তমানে আলোচিত এ মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিষয় :