logo

ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, সভাপতিসহ আহত ১৫

ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, সভাপতিসহ আহত ১৫

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

সংঘর্ষে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম (৪৪) ও রাসেল হোসেন (৪২) গুরুতর আহত হন। এছাড়াও উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু ও খাইরুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিএনপি নেতা সারকিদুল ইসলাম। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিএনপির একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল।

একপর্যায়ে বিএনপির অপর পক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপুকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার পুনর্দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম তার সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে ব্যক্তি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে প্যানেল চেয়ারম্যান নন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পছন্দের লোকজনকে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করছেন এবং সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে এমন তথ্য পেয়ে পরিষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম।

গাংনী থানার অন্তর্গত এলঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল কুমার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।