কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মিলল ১২ বস্তা টাকা। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টার গণনা শেষে নগদ মিলল ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে। মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি টাকা জমা পড়ল।
ওরস শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে গণনা শুরু হয়ে চলে ভোর রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
দানবাক্সের বিপুল পরিমাণ টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী-স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে টাকাগুলো আজ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট মাজারটিতে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয় এবং ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটে। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান দানবাক্সে নগদ অর্থসহ সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। এ ছাড়া ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব আলাদাভাবে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খড়মপুরের এই মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী এখানে আসেন। এবার দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি মেলায় ভক্তদের গভীর আস্থা ও ধর্মীয় আবেগের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
কেল্লা বাবার মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (মিন্টু খাদেম) জানান, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালে ৬১ লাখ, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো অনুদানের পরিমাণ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়াল।



