দাদি-নাতনি হত্যার ‘ক্লু’ হাতে পেয়েছে পুলিশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ‘ক্লু’ হাতে পাওয়ার দাবি করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার শামীম। এ ঘটনায় এখন পন্তর্য ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে এসে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। এর আগে ওই কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের এলাকা সরজমিন পরিদর্শন, নিহতের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার শামীম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ‘ক্লু’ হাতে পেয়েছি। ওই সূত্র ধরেই পুলিশের স্পেশাল একটি টিম এখন ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান করছে। আরেকটি টিম কাজ করছে আসামি ধরার অভিযানে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনা প্রকৃত আসামি ধরতে পারবো। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এতে মনে হয়েছে ঘটনার রাতে দাদি হয়ত তার নাতনিকে বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের বাধা দিয়েছেন ও তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। পরে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পরে হত্যা করেছে—যা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার ‘ক্লু’ হাতে পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে আসামি ধরতে পারবো।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল হোসেন ও মা শিরিনা খাতুনের মধ্যে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে দাদির সঙ্গে থেকে পার্শ্ববর্তী দিকশাইল দাখিল মাদ্রাসায় ১০ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো জামিলা। জামিলার বাবা গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় কাজে গিয়েছে। এই কারণে বাড়িতে বৃদ্ধা দাদিকে নিয়ে জামেলা একাই বাড়িতে ছিল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার দিন সকালে প্রতিবেশী আসাদুল প্রামানিকের ছেলে ফাহিম পানি নেওয়ার জন্য নিহতের বাড়িতে যায়। বাড়ির দরজায় বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ডাক চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। পরে তারা নাতনি জামিলাকে খোঁজাখুঁজির করতে থাকে। একপর্যায় বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে জামিলার পরনের পায়জামা, ৩ গজ দূরে জামা ও ৫ গজ দূরে গম ও শরিষা ক্ষেতের সীমানা (আইলের উপর) জামিলা বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।