logo

চলন্ত ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরি, কোচ রেখেই ঢাকা গেল ট্রেন

চলন্ত ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরি, কোচ রেখেই ঢাকা গেল ট্রেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল (কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করা) চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

চুরির ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নম্বরের কোচটি পঞ্চগড় রেলস্টেশনে রেখে কম সংখ্যার কোচ নিয়ে রেলপথের ৭৯৪ রেক দিয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস হয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ট্রেনটি। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটিকে রেলপথের নির্দিষ্ট রেক থেকে আলাদা রেকে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোচটি কেরামত না হওয়া পর্যন্ত ওই রেকে ১৩টি কোচের পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে বিভিন্ন নামে ট্রেনটি চলাচল করবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটিকে স্পিয়ার কোচ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। আরও দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটির ছাদের উপর কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা উঠে রয়েছে। 

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি ঢাকা থেকে দ্রুতযান একপ্রেসের সাথে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে। এর আগে গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার সময় পথিমধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পেরে রেল কর্তৃপক্ষকে অবগত করে। কোচটিতে ৭৮টি এসি চেয়ার ছিল। এতে করে কিছুটা দুর্ভোগে পড়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ওই কোচের যাত্রীরা। 

এর আগে একইভাবে গেল বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পর ৮ ফেব্রুয়ারির এবং তৃতীয় বারের মতো গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চুরির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ওই কোচের বিক্রীত টিকিটের টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান পঞ্চগড় রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা। 
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে এমন চুরির ঘটনা ঘটছে। জবাব চাওয়ার পর আমরা আমাদের জায়গা থেকে পরিষ্কার ভাবে উত্তর দিচ্ছি। এই চুরির ঘটনাগুলো ঢাকা থেকে আসার সময় পথেই হচ্ছে।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসার সময় উপর থেকে সেটা কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। এসির কার্যকারীতা কমে গেলে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বুঝতে পারেন। এসি কোচের জন্য ওই অংশ বা কনডেন্সার কয়েল অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই সেটিকে রেখে কম সংখ্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তবে কিভাবে ঘটেছে তা জানার জন্য দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে। 

স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সকালে ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশনে প্রবেশ করলে ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। মেসেজে তারা জানিয়েছে, একটি কনডেন্সার কয়েল মিসিং রয়েছে। একই সঙ্গে ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। যারা ক্রয় করেছেন, তারা ওই টিকিটের সমপরিমাণ টাকা ফেরত পেয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই রেকে কোচটি কম চলাচল করবে। এতে ওই কোচের রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে গ কোচটি যাত্রাপথে সট টিপের ছিল। পঞ্চগড় থেকে ট্রেনের সঙ্গে কোচটি গিয়ে ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, দিনাজপুর, পার্বতীপুরে সট টিপ ছিল।