এক হাতে অস্ত্র নাড়ছেন, আরেক হাতে ফোন–ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তিটি কে

বাঁ হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র। সেটি নাড়ছিলেন তিনি। আরেক হাতে ফোন। ডান কানে ফোনটি ধরে আছেন। কথা বলছিলেন কারও সঙ্গে। দৃশ্যটি দেখে চোখ আটকে যায়। আট সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিওটি ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দিন ধরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরও এড়ায়নি। ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও অস্ত্রটি আসলে আগ্নেয়াস্ত্র কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম মো. শান্ত। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শান্তিধারা ১ নম্বর রোড এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী রাজ্জাকের ছেলে। তার এক ভাই মো. রায়হান ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
তবে ভাইরাল ভিডিওটি কবে, কখন ও ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে–তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে শান্তকে ফোনে কথা বলার সময় একাধিকবার একটি সংখ্যা উচ্চারণ করতে শোনা যায়। তিনি অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে ‘১২৮’ সংখ্যার হিসাব নিয়ে দরকষাকষি করছিলেন। কথোপকথনের মধ্যে তিনি এই সংখ্যাটি দুইবার উচ্চারণ করেন।
দৃশ্য ধারণের সময় তার সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তির কন্ঠ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ফোনে ভিডিওটি ধারণ করেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, শান্তর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাকে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, শান্তর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্তসহ ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ওই যুবক আত্মগোপনে চলে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
