ভাইরাল সেই বিউটি রানি পাল সিলেটের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন সাতজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত চারজনের একজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের সঙ্গে তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ স্বাক্ষরিত এক স্মারকে নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্য থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন—সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত নুরজাহান বেগম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।
অন্যদিকে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্য থেকে তিনজন শিক্ষককে বিভাগীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা নিলুফার, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব এবং সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আলম।
বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত ২২ সেপ্টেম্বরের পত্রে বলা হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্যে বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবেও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
গত জুলাইয়ে বিউটি রানীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পর একটি পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।
তবে এ পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ অভিনবভাবে তার বিরুদ্ধে চলা ট্রলের প্রতিবাদ জানান। বিউটি পালের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেকে ফেসবুকে গানও করেন।
