logo

মা-বাবার মৃত্যু সংবাদও জানে না দগ্ধ ৩ শিশু

মা-বাবার মৃত্যু সংবাদও জানে না দগ্ধ ৩ শিশু

তৃতীয় রমজানের (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাহরি শেষে যখন সারা দেশ শান্তিতে ঘুমাচ্ছিল, ঠিক তখনই হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ কেঁপে উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বিস্ফোরণে। এতে নিমিষেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের সাজানো সংসার। সেই আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে পরিবারের ছয় সদস্যের প্রাণ।

আজ শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিনে যখন চারদিকে আনন্দের জোয়ার, তখন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিস্তব্ধ ওয়ার্ডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ওই পরিবারের বেঁচে থাকা তিন শিশু— উম্মে আয়মান (১০), ফারহান (৬) ও আয়েশা (৪)।

পোড়া শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা আর ব্যান্ডেজের স্তূপে ঢাকা পড়েছে তাদের ঈদের আনন্দ। স্বজনরা তাদের জন্য নতুন জামা কিনলেও তা পরানোর মতো অবস্থা নেই শরীরের। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই নিষ্পাপ শিশুরা এখনও জানে না তাদের মাথার ওপর থেকে বাবা-মায়ের ছায়া চিরতরে সরে গেছে।

তারা বারবার বাবা-মায়ের খোঁজ করলে স্বজনরা চোখের জল আড়াল করে বলছেন— ‘তারা পাশের রুমেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ মা-বাবা বেঁচে নেই— এই রূঢ় বাস্তবতা সহ্য করার ক্ষমতা হয়তো এই ছোট্ট শিশুদের এখনও তৈরি হয়নি।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে কথা হয় সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য নতুন জামা কিনেছিলাম। কিন্তু জামা কাপড় পড়ানোর তো অবস্থা নেই।’ বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি। পরক্ষণেই বলেন, ‘পাশে আমার ভাইয়ের বাসা। সেখান থেকে ঈদের সেমাই ফিরনি পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন সামান্য সামান্য কথা বলছে। এখনও কেউ জানে না তাদের বাবা-মা নেই। তারা জিজ্ঞাসা করেছিল। বলেছি তারা পাশের রুমে চিকিৎসাধীন আছে। দেখানোর সুযোগ নেই।’

মিলনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এদের মধ্যে উম্মে আরমানের অবস্থা এখনো আশঙ্কা মুক্ত না। ফারহানের একটা কান কেটে ফেলতে হবে। হাত থেকে খসে পড়েছে মাংস। মাঝে তার অবস্থা ভালো হলেও আবার অবনতি হচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে আয়েশার অবস্থা কিছুটা ভালো।

হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামক একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ঘটা ওই বিস্ফোরণে পরিবারের ৯ জন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

আহতদের মধ্যে ৬ জন একে একে মারা যান। তারা হলেন গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেন (৪৯), তার স্ত্রী নূরজাহান আক্তার রানী (৪০), তাদের ছেলে শাওন (১৬), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সমীর আহমেদ সুমন (৪০), সুমনের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসেন (৩০)।