‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছেলে, ভাই ও মাকে হারালাম’

‘কত সুখ আমাদের পরিবারে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। একসঙ্গে আমার ছেলে, ভাই ও মাকে হারালাম। আমার সংসার ভেঙে ছারখার হয়ে গেল। আমার সব ছিল, এখন সব নেই হয়ে গেল। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব।’
এভাবে আহাজারি করছিলেন চিকিৎসক ইশরাত জাহান রুবা। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে মারা গেছেন তার ছেলে, ভাই ও মা।
নিহতরা হলেন—রুবার ছেলে আনার তাজবীর (৭), রুবার মা রেহেনা আক্তার (৬১) ও রুবার ভাই আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর এলাকায়।
পারবারিক সূত্রে জানা যায়, রুবা ঢাকায় চাকরি করেন। তার ভাই আহনাফ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অহাজারি করে রুবা বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা আসতেছে শুনে রান্না করছিলাম। সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু ফোন দিয়ে জানায় আমার মা আর নেই। আমার ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার বাচ্চাকে ছাড়া কেমন করে বাঁচব। আমার একটা মাত্র বাচ্চা, সোনার ছেলে আমার। আমার চাঁদের মতো ছেলে। ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যাই তখন আমার ছেলে বলছিল মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা তুমি, সে বলল মামার কাছে ঘুমাব। আমার ছেলের মামাও নেই, আমার ছেলেও নেই। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।