মুন্সীগঞ্জে বাস থামিয়ে রড-লাঠি দিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলা, আহত ৪

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী ‘মিয়ামি এয়ারকন’-এর একটি বাস থামিয়ে রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারীসহ অন্তত চার যাত্রী আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত এসআই ফারুক। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভাগুরা এলাকার সোহেল সরকার (২৬), চানপুর এলাকার হাসিনা আক্তার (৪৫), ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার নাসিমা আক্তার (৪৮) এবং কুমিল্লার চানপুর এলাকার সিয়াম (২১)।
জানা যায়, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া থেকে মিয়ামি এয়ারকনের একটি বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি মাধাইয়া এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং আরোহী সড়কে পড়ে যান। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক আতঙ্কিত হয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। যাত্রীরা তাকে গতি কমানোর অনুরোধ করলেও তিনি তা শোনেননি। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-নম্বরে ফোন দেন।
খবর পেয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় বাসটি আটক করে। তবে এ সময় চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান। পরে যাত্রীদের ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য মিয়ামি এয়ারকন কর্তৃপক্ষ আরেকটি বাস পাঠায় এবং যাত্রীরা সেটিতে করে রওনা হন।
মেঘনা-গোমতী সেতু পার হয়ে বাসটি গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড়ে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত বাসটির গতিরোধ করে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন ব্যক্তি বাসে উঠে রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। বাদ যাননি নারী যাত্রীরাও। হামলার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশ করেছে মিয়ামি এয়ারকন কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চালকের এমন কাণ্ডে তারা লজ্জিত। অভিযুক্ত চালককে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে চালক পলাতক রয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আহতদের সব চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ বহন করা হবে। পাশাপাশি যেসব আহত যাত্রীর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ হয়নি, তাদের উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মিয়ামি এয়ারকন বাসের মালিক মিজান বলেন, আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি। জড়িতদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বৈঠক করা হয়েছে এবং আমরা নিজেরাই থানায় মামলা করেছি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, বাসের একজন চালক এ ঘটনায় মামলা করেছেন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত এসআই ফারুক জানান, ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে এবং তা গজারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




