logo

সমুদ্র দেখা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর

সমুদ্র দেখা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর
ছবি : সংগৃহীত

সমুদ্র সৈকতে আনন্দের মুহূর্ত কাটিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন দুই বন্ধু। কিন্তু সেই আনন্দই যে তাদের জীবনের শেষ আনন্দ হবে, তা কে জানত! ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাম্পট্রাকের ধাক্কায় কেড়ে নিল দুই তরুণের প্রাণ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জের চৌধুরী পাড়া রাস্তার মুখে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী বিচে ঘুরতে গিয়েছিলেন শাওন ও জিসানসহ বেশ কয়েকজন বন্ধু। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তারা মোটরসাইকেলযোগে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে একটি দ্রুতগতির রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডাম্পট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জিসানের মৃত্যু হয়।

​

গুরুতর আহত অবস্থায় শাওনকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শাওন।

​নিহতরা হলেন—ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাটোয়ারী বাড়ির কামরুল ইসলাম রসুলের একমাত্র ছেলে জিহানুল ইসলাম শাওন (২০) এবং সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ির আবু তৈয়বের ছেলে ইকবাল হোসেন জিসান (২৩)। নিহতদের মধ্যে শাওন ফেনী হোমপ্লাস সুপার শপের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

​নিহত শাওনের আত্মীয় এমরান পাটোয়ারী জানান, শাওন ও জিসান একই মোটরসাইকেলে ছিল। শাওন আমার মামার একমাত্র ছেলে। বিচের আনন্দ শেষে বন্ধুরা মিলে বাড়ি ফিরছিল, কিন্তু এক ডাম্পট্রাক সব শেষ করে দিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিন মিয়া এশিয়া পোস্টকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ডাম্পট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।