পদ্মায় নৌকাডুবি/উদ্ধার ১০ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় স্রোতে ভেসে ভারতের অংশে চলে যাওয়া ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনায় একজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মোস্তফা (৬০) নামের এক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুর (বকরী পাড়া) গ্রামের বাসিন্দারা জেলা কারাগারে থাকা এক স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর শহরে এসেছিলেন। কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ শেষ করে বিকেলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে রওনা হন তারা।
বাড়ি ফেরার জন্য তারা প্রথমে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি এলাকার ঘাটে যান। সেখান থেকে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি জহুরপুরটেক-খলিফাচর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে তীব্র স্রোত ও হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা মো. ওয়াসিম (২৩) নামের এক যুবক সাঁতরে বাংলাদেশের তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি ১১ জন যাত্রী পানিতে তলিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর ১০ জন যাত্রী ভেসে ভারতের ভূখণ্ডে চলে গেলে ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর বিএসএফের পক্ষ থেকে ফোনে বাখেরআলি ও ফরিদপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারকে উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়।
সংবাদ পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) জোরালো প্রচেষ্টায় উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের দ্রুত ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধারকৃত ১০ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজন মো. ইসমাইল হোসেনের জিম্মায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরত আসা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন— মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২) ও তার ২০ দিন বয়সী শিশু সন্তান, সানাউল্লাহ (৯) এবং আল আমিন (৯)। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছেন।
এদিকে একই এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ মো. মোস্তফাকে (৬০) উদ্ধারে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জীবন চন্দ্র রায়।

