logo

বাংলার শেকড়ের স্বাদ ছড়িয়ে দিতে নবাবগঞ্জে ‘নাড়ু উৎসব’

বাংলার শেকড়ের স্বাদ ছড়িয়ে দিতে নবাবগঞ্জে ‘নাড়ু উৎসব’
শরৎকালীন নাড়ু উৎসব ২০২৬। ছবি: আয়োজকদের ফেসবুক থেকে

বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে নানা রকমের দেশীয় খাবার। সময়ের সঙ্গে খাবারের তালিকায় নানা আধুনিক পদ যুক্ত হলেও হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক চেনা ঐতিহ্য। সেই শেকড়ের খাবারকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ঢাকার নবাবগঞ্জে আয়োজন করা হচ্ছে ‘শরৎকালীন নাড়ু উৎসব ২০২৬’।

আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বসবে এ উৎসব। নবাবগঞ্জের সাংস্কৃতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমি (নাফা) এবং ইনভিশন অ্যাকশন রিওয়ার্ড অ্যাসেট (ইয়ারা) যৌথভাবে এ আয়োজন করছে।

আয়োজকদের দাবি, এটি বিশ্বের একমাত্র নাড়ু উৎসব। ‘মাটির সংস্কৃতি ধরে রাখব আমরা, ছড়িয়ে দেব সারা বিশ্বে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কয়েক বছর ধরে উৎসবটি আয়োজন করে আসছেন গবেষক ও সংগঠক সায়মা রহমান তুলি। তিনিই এ উৎসবের প্রবর্তক।

উৎসবের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে সায়মা রহমান তুলি বলেন, গ্রামবাংলায় অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পারিবারিক নানা আয়োজনে দীর্ঘদিন ধরেই নাড়ুর ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রিয়জনের হাতে তৈরি নানা ধরনের নাড়ুর স্বাদ মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত করে। তার ভাষায়, ‘নানা খাবারের ভিড়ে আমাদের নিজস্ব খাবার যেন হারিয়ে না যায়। যারা নিজেদের হাতে নানা ধরনের নাড়ু তৈরি করেন, তাদের উৎসাহ দেওয়াও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

উৎসবে থাকছে নাড়ু প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ। পরিচ্ছন্নতা, স্বাদ ও ডেকোরেশনের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য থাকছে সনদপত্র ও ক্রেস্ট। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে প্রতিযোগীদের নিজেদের হাতে তৈরি পর্যাপ্ত পরিমাণ নাড়ু নিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল ৩টা থেকে ১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

আয়োজনে উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, ঢাকা, নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি মাহমুদ আলী খান টুলু। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন খন্দকার। এ ছাড়া বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন তামান্না রহমান এবং উদ্যোক্তা ও রোদসী ম্যাগাজিনের সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনকে।

অনুষ্ঠানে আরও থাকবেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর খন্দকার মাহমুদ আরশীন, স্ক্রিপ্ট রাইটার সাদিয়া খালিদ রীতি এবং উদ্যোক্তা মাহমুদা আক্তার কলিসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

নাড়ু প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে থাকবেন সেলিব্রিটি রন্ধনশিল্পী ও কুলিনারি অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক এক্সপার্ট রাহিমা সুলতানা রীতা। অনলাইনে যুক্ত থাকবেন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য এবং উদ্যোক্তা অমৃতা দত্ত। উৎসবে সভাপতিত্ব করবেন নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লতিফা রহমান লতা। পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় থাকবেন নাড়ু উৎসবের প্রবর্তক সায়মা রহমান তুলি।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, নাড়ুকে ঘিরে এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও দেশীয় খাবারের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ হয়ে উঠবে।

‘এসো, নাড়ুর স্বাদে শেকড়ের গল্প বলি। এসো, বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্ম ও বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিই’- এই আহ্বান নিয়েই অনুষ্ঠিত হবে এবারের নাড়ু উৎসব।