logo
Advertisement

‘মাদ্রাসায় দান করা জমি ১২০ কোটির নয়, ভুলে বলেছেন আয়োজকরা’

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ
কুমিল্লা আদর্শ সদর, কুমিল্লা
‘মাদ্রাসায় দান করা জমি ১২০ কোটির নয়, ভুলে বলেছেন আয়োজকরা’
বাঁ থেকে— মাহফিলে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় মাদ্রাসায় জমি দাতা ওবায়দুল মোস্তফা ওরফে জসিমেকে ও দানকৃত মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জমি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় কাদেরিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জন্য দান করা ৪৮ শতক জমির মূল্যকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক মাহফিলে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ১২০ কোটি টাকা বলে ঘোষণা করা হলেও, জমিদাতা ওবায়দুল মোস্তফা ওরফে জসিম স্বয়ং দাবি করেছেন, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। তার ভাষ্য, মাইকে ১২০ কোটি টাকা মূল্যের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়, ভুলে এত মূল্য বলেছেন আয়োজকরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মাহফিলের দিন নতুন করে জমিটি দান করা হয়নি। জমিটি ২০১৯ সালেই চট্টগ্রামের আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের কাছে হেবা করা হয়। সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে জমিদাতাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হলেও জমি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া কয়েক বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

মাহফিলে জমির মূল্য ১২০ কোটি টাকার ঘোষণা

গত সোমবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ওই জমিতে প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে একটি মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তা পীর সাবির শাহ জমিদাতা জসিমকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি দানের কথা উল্লেখ করেন। পরে জসিমকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের ওই ঘোষণার পরই জমিটির প্রকৃত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ জমিদাতা নিজেই বলছেন, জমিটির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।

জমি দাতা জসিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। আমি ছদকা হিসেবে দান করেছি। আমরা চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে জায়গা বণ্টনের পর আমি যে জায়গা পেয়েছি, সেটি দান করেছি। তবে মাইকে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটি সঠিক নয়, ভুলে এত মূল্য বলেছে আয়োজকরা।

তিনি আরও বলেন, আমি এটার প্রতিবাদ জানাতে কমিটিকে বলেছিলাম। তারা বলেছে, এটা এখন আবার দিলে সুন্নীয়তে বদনাম করবে ওহাবিরা। তবে এটা ডাহা মিথ্যা কথা বলে ঘোষণা করেছে।

মাদ্রাসায় জমি দানের ঘটনা পুরোনো

জমির নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ব্যবহৃত ৪৮ শতক জমি ২০১৯ সালেই চট্টগ্রামের আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের কাছে হেবা করা হয়। অর্থাৎ, সোমবারের মাহফিলে জমিদাতাকে সম্মাননা দেওয়া এবং তার দানের কথা তুলে ধরা হলেও জমি দানের ঘটনা ওই দিনের নয়। পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টনের পর জসিমের অংশে আসা জমি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দান করা হয়।

মাদ্রাসার সেক্রেটারি ও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাদ্রাসার জন্য জসিম সাহেব জমি দান করেছেন। তার কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতে এখানে মাদ্রাসার পাশাপাশি আরও কী কী করা যায়, সেটি আঞ্জুমান ট্রাস্ট দেখবে।

গোলাম আজম বলেন, এখানের ৪৮ শতক পরিবার থেকে পেয়েছেন। তবে ৪৮ শতকের মধ্যে ১২ শতক আরেক ভাইয়ের। সেটি বদলাবদলি করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের পর জসিমের দখল ও মালিকানায় আসা জমির সঙ্গে তার ভাইয়ের অংশের জমি বদলাবদলি করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জন্য ৪৮ শতক জমি একত্র করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সন্তান না থাকায় পৈতৃক সম্পত্তি দান

জমিদাতা ওবায়দুল মোস্তফা ওরফে জসিমের পারিবারিক পরিচয় ও জীবনযাপন সম্পর্কেও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মরহুম সেকান্দর আলীর ছেলে। ছোটবেলায় পড়াশোনা কিছুটা করলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হননি। সন্তান না থাকায় সুফি সাধনায় জীবন কাটাচ্ছেন এবং পৈতৃক সম্পত্তির আয় থেকে চলেন। কুমিল্লা শহরে তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর একটি তিনি নিজে ব্যবহার করেন এবং অন্যটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।