কুকুর টানাটানি করছিল মাটিচাপা দেওয়া মা-মেয়ের মরদেহ

ফরিদপুরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার শিশুসন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানা আক্তার ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। জাহানা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লার মেয়ে। আমজাদ স্থানীয় একটি ইটভাটার শ্রমিক। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জাহানাকে বিয়ে করেন তিনি। জাহানা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার ১১ দিন ধরে নিঁখোজ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে কুকুরে লাশ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও একটি কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত হয়ে গেছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কয়েক দিন আগে দুর্বৃত্তরা মা ও শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ বলেন, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার ভাগনে আলা খাঁর চল্লিশার অনুষ্ঠানে যান জাহানা। ফেরার পথে অন্যদের বিদায় জানিয়ে শিশুকন্যা সামিয়াকে নিয়ে ওষুধ কিনতে হামেদ খাঁর বাজারে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
শিশুটির দাদা আব্দুর রব শেখ বলেন, দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। জাহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জামাল মোল্লা বলেন, আমজাদ একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। মাঝে মধ্যে জাহানাও সেখানে যেতেন। ইটভাটার এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছিল। মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছেই ওই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনায় ওই যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
