Advertisement

কারাগারে ভাইয়ের মৃত্যু, প্যারোলে জানাজায় আ.লীগ নেতা ছোট ভাই

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
কারাগারে ভাইয়ের মৃত্যু, প্যারোলে জানাজায় আ.লীগ নেতা ছোট ভাই
প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জানাজায় আওয়ামী লীগ আখতারুজ্জামান বিশ্বাস। ছবি : এশিয়া পোস্ট

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দী বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ নিয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সাজা হওয়ার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও তার ভাই আতাউর রহমানকে দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাদ মাগরিব কুষ্টিয়ার দহকোলা বাজার ঈদগাহ মাঠে আখতারুজ্জামানের বড় ভাই হাবিল বিশ্বাসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্ট্রোকজনিত কারণে হাবিল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে রয়েছেন আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বিশ্বাস। একই মামলায় তার ছেলে ও ভাইসহ পরিবারের সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

জানাজায় আখতারুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আমাদের বড় শত্রু আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ও তার ভাই আতাউর রহমান আতা। তারা চক্রান্ত করে আমাদের ফাঁসিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের সাতজনকে কারাগারে যেতে হয়েছে। এ জন্য হানিফ ও আতাউর রহমান আতার পরিবারকে শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কোনো দিন মাফ করব না। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ওই দু্ই নেতা যেন কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জানাজায় নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে আখতারুজ্জামান বলেন, ভোটে নির্বাচিত হয়েও পাঁচ বছর ইউনিয়নের মানুষের সেবা করতে পারেননি। এ জন্য তিনি উপস্থিত মানুষের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আমরা মজলুম। আমরা বাইরেও নির্যাতিত, জেলখানায়ও নির্যাতিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাবিল বিশ্বাসের মৃত্যুতে আলামপুর ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে আখতারুজ্জামান বিশ্বাস প্যারোলে আসছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দহকোলা ঈদগাহ মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। তার বক্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলু বলেন, আখতারুজ্জামান বিশ্বাসের পরিবারের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ তৈরি করা হয়েছে—এ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পরিবারের একাধিক সদস্য কারাগারে থাকায় তারা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার শরিফুল আলম বলেন, আদালতের আদেশে আখতারুজ্জামান বিশ্বাসকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা ও দাফন শেষে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে গভীর রাতে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিষয় :