logo

হবিগঞ্জে ৬৬৩টি মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

হবিগঞ্জে ৬৬৩টি মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
হবিগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হবিগঞ্জে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপেই এখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমায় চলছে রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। কারিগরদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত প্রতিমা কারিগরেরা।

প্রতিমার পাশাপাশি চলছে মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই মণ্ডপগুলোর বর্তমান চেহারা বদলে গিয়ে আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠবে চারপাশ।

হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা পূরবী দাস বলেন, ‘এবারের পূজা আমরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করতে পারব বলে আশা করছি। ইতিমধ্যেই উৎসবকে ঘিরে কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। তবে পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

প্রতিমা কারিগর শম্ভু রায় বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কারুকার্যের কাজ করছি। আশা করছি, দুই-তিন দিনের মধ্যেই সব প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে পারব।’

হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্ত রায় জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার মোট ৬৬৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। এরপর বোধন, অঞ্জলি, সন্ধিপূজাসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে শারদীয় আয়োজন। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব শেষ হবে।

তিনি আরও জানান, উৎসবকে ঘিরে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপ কমিটিগুলো নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ জানান, পূজাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও সতর্ক ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।