টাঙ্গাইল/নিয়ম না মেনেই কাটা হলো হাসপাতালের গাছ

অনুমতি ছাড়াই টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি কড়ই ও মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে। গাছগুলো কিনে নিয়েছেন স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া। হাসপাতালের সীমানার ভেতরে সরকারি গাছ কাটতে হলে পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন ও বন বিভাগের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হলেও এর কোনো কিছুই মানেননি ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা পুরোনো কড়ই, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের শোভাবর্ধন করে আসছিল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে বাবুল নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী গাছ কাটা শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল গাছ কাটা বন্ধ করে চলে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাছের বড় বড় গুঁড়ি ও ডালপালা হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মেহগনি ও কড়ই গাছের ওপরের অংশ কাটা হলেও গোড়ার কিছু অংশ বাকি রয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বাকি অংশ কাটতে পারেননি এবং কাটা গাছগুলোও নিয়ে যেতে পারেননি কাঠ ব্যবসায়ী।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল বলেন, হাসপাতালের ভেতরে দীর্ঘদিনের পুরোনো অনেক গাছ রয়েছে, যা আগত রোগী ও স্বজনদের ছায়া দিয়ে আসছিল এবং হাসপাতালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছিল। এভাবে গাছ কেটে ফেলায় হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। সরকার যেখানে গাছ লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে গাছ কেটে ফেলা সত্যিই কষ্টদায়ক। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।
সচেতন নাগরিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এত পুরোনো গাছ কেটে ফেলা উচিত হয়নি। এসব গাছের ছায়ার নিচে অনেক রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষ আশ্রয় নেন। তাছাড়া গাছ কাটার কারণে হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। গাছ কাটার আগে এলাকাবাসী এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো উচিত ছিল।
নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের সরকারি গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের লিখিত অনুমতি ও পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন থাকার কথা থাকলেও ডা. সাজিয়া আফরিন তার কোনোটিই মানেননি। সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিন বলেন, বন বিভাগ ও সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে কেবল ডালপালা কাটা হয়েছে, গাছ কাটা হয়নি।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি এবং আমাকে মৌখিকভাবেও কিছু জানানো হয়নি।
