logo

১০০ টাকার জন্য পোশাক শ্রমিক খুন

১০০ টাকার জন্য পোশাক শ্রমিক খুন

বরগুনার আমতলীতে ধানের কুড়া কেনা নিয়ে ১০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় আহত পোশাক শ্রমিক মারা গেছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামলার ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে, গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সকালে আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

নিহত সজিব আকন (২০) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি গত ২০ মার্চ বাড়িতে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সজিবের বাবা আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ কুড়া কিনেছিলেন। পরে এনিয়ে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দাবি করেন সোনা মিয়া। বিষয়টি নিয়ে গত ৫ মার্চ উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জেরে ঈদের দিন সকালে আয়নালীর ছেলেরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। একপর্যায়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়নালী আকনের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে আয়নালী আকন, তার ছেলে আল-আমিন ও সজিব আকনসহ পরিবারের ছয়জন গুরুতর আহত হন।

আহতদের প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর সজিব মারা যান। অন্যরা এখনও চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় গত ২২ মার্চ সজিবের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন বাদী হয়ে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। পরে ২৪ মার্চ মামলার আট আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

নিহতের ভগ্নিপতি মো. আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চারজনের মধ্যে সজিব আকন মারা গেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ৮ জন আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।