logo

গাইবান্ধায় পাম্পে তেল সংকট, বাহিরে মিলছে চড়া দামে

গাইবান্ধায় পাম্পে তেল সংকট, বাহিরে মিলছে চড়া দামে

গাইবান্ধা জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। তেলের সন্ধানে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন গ্রাহকরা, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন। পাম্পগুলোতে সরবরাহ না থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে দ্বিগুণ দামে দেদার বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেলচালকরা। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ থাকলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরছেন অনেকে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে খোলা বাজারে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হলেও, খুচরা দোকানগুলোতে তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য মোটরসাইকেল চালক আজাদুল ইসলাম বলেন, পাম্পে তেল নেই বলা হলেও বাইরের দোকানে বোতলে করে ঠিকই তেল পাওয়া যাচ্ছে। এটা স্পষ্টত একটি সিন্ডিকেটের কাজ। তারা পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে।

আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ছাকা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, কাগজে-কলমে সরকারের নির্ধারিত দাম থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে।

তবে সংকটের কথা স্বীকার করলেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তেল আসার পরপরই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার মোটরসাইকেল চালক জামাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকে উপজেলার তিনটা পাম্প ঘুরেছি, কোথাও তেল পাইনি। আমি এনজিও কর্মী, কীভাবে অফিস যাবো? এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে চলাচল করব।

স্কুল শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খোলা বাজারে ৩০০ টাকায় তৈল মিলছে অথচ পাম্পে তৈল নেই ৷ আমরা বিষয়টি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি৷  

প্রাইভেটকার চালক শাহীন মিয়া জানান, গত দুইদিন ধরে ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। যাত্রী নিতে পারছি না, আয় একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে আমরা পথে বসে যাব।

তেল সংকটে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণের পাশাপাশি জেলার অন্তত শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা বিপাকে পড়েছেন বলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। 

বলাকা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মালিক রানা মিয়া জানান, তেল না থাকায় গতকাল থেকে আমার দুটি গাড়ি গ্যারেজে পড়ে আছে। আজ সকাল থেকে তিনটা ফোন এসেছিল রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তেল না থাকায় গাড়ি বের করতে পারিনি।

স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন জাকির জানান, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পেট্রোলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি করছেন বাহিরের খুচরা বোতল দোকানিরা। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হওয়ার কথা।

গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আর রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান, তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় গতকাল থেকে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছে।‌ আমাদের এখানে দৈনিক ৭০০০ লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে যে পরিমাণ গ্রাহক আসছে তাতে প্রায় ১০০০০ হাজার লিটার প্রয়োজন। অনেক গ্রাহক তেল থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন পাম্পে ভিড় করছে এতে ব্যক্তি পর্যায়ে মজুত বেড়ে গেছে সেই সাথে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷