logo
Advertisement

কুড়িগ্রাম/তিস্তার ভাঙনে বিলীন বাঁধের ৪০ মিটার, হুমকির মুখে ৬ গ্রাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ,কুড়িগ্রাম
তিস্তার ভাঙনে বিলীন বাঁধের ৪০ মিটার, হুমকির মুখে ৬ গ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বুড়িরহাট এলাকার তিস্তার নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়া ক্রসবাঁধ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তার ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হঠাৎ করেই এই বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করলেও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বাঁধটি ভেঙে গেলে রাজারহাটের বড়দরগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট—এই ছয়টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সরাসরি প্লাবন ও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। সেই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে শত শত বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং কমপক্ষে পাঁচটি স্থানীয় বাজার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের মূল রাস্তার একটি অংশে হঠাৎ ফাটল ধরে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে সেই ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় বাঁধের তলদেশের মাটি ও বালু দ্রুত সরে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল বলেন, গতকাল থেকেই নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা ভাঙনের আলামত বুঝতে পেরে আশঙ্কার কথা দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বুড়িরহাট এলাকার অন্য এক বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এখানে নদীচর ও বালু ছিল। তখন একটি জায়গা সামান্য দেবে গেলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বালু সরে গেছে, ফলে পুরো বাঁধটিই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে। দ্রুতই ভাঙন সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।