logo

সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকি, ইউএনওর ভিডিও বার্তা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ
সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকি, ইউএনওর ভিডিও বার্তা
ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এমন অভিযোগ ওঠার পর আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ উপজেলা কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে ঘিরে গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন, অন্যদিকে প্রশাসন কঠোর বার্তা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু করেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কি কেবল সতর্কীকরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তদন্তসাপেক্ষে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ গৌরীপুর পিআইও কার্যালয়ে যান। তিনি নিজের এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী তাকে জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

অফিস সহকারীর অভিযোগ, একপর্যায়ে রিশাদ উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে, পরদিন বুধবার পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। তাদের বক্তব্য, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে স্বাভাবিক কাজ করা অসম্ভব।

এদিকে, হঠাৎ এই কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্থবির হয়ে পড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি সহায়তার প্রশাসনিক কার্যক্রম। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনি সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা তার কার্যালয় থেকে একটি ভিডিও বার্তা দেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

যোগাযোগ করা হলে ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘প্রথম ধাপে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ সরকারি কাজে বাধা দেন, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই রকম পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হুমকি দিইনি। বরং এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পিআইও ও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’