পাবনায় শিশু কলি হত্যার আসামির বাড়িতে তৃতীয় দিনেও ভাঙচুর

পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামানিকের বহুতল বাড়িতে তৃতীয় দিনের মতো ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামে ওই বাড়িটিতে লোকজনের ভিড় ছিল।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু হয়। শনিবারও দিনভর ভাঙচুর চলে। রোববার সকাল থেকে আবারও বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হন। তাদের অনেকের হাতে ছিল হাতুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম।
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, শিশু কলির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা তারা মেনে নিতে পারছেন না। তারা বাড়িটির কোনো অংশ অক্ষত রাখতে চান না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, তৃতীয় দিনের মতো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন বাড়িটিতে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এসে অংশ নিচ্ছেন।
এর আগে, এদিন দুপুর ১২টার দিকে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদলত ঘেরাও করেন স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন। পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে জন্য আরও দু-এক দিন অপেক্ষা হতে পারে। এরপর তদন্ত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
