Advertisement

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজন নারীকে গণপিটুনিতে হত্যা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাতক্ষীরা
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজন নারীকে গণপিটুনিতে হত্যা
ফারজানা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফারজানা সুলতানা (৯) উপজেলার কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে। সে কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু স্কুল ছুটি হওয়ার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা কালিগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে খোঁজার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া নামে এক নারীর বসতঘরের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমাইয়া ওই এলাকার আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক সন্দেহে সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশু ফারজানা ও সন্দেহভাজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, ফারজানার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে হত্যার মূল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।