Advertisement

সুন্দরবন থেকে আরও আট জেলে অপহরণ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাতক্ষীরা
সুন্দরবন থেকে আরও আট জেলে অপহরণ
সুন্দরবনে জেলেরা। ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা যেন কোনোভাবেই থামছে না। মুক্তিপণের দাবিতে একের পর এক জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল উপকূলের বনজীবীরা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের আওতাধীন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে আরও আট বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘নানা ভাই’ ওরফে ‘ডন’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে।

অপহৃত বনজীবীরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার, আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল, আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম গাজী, একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান, শামসুর রহমান গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম, খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

অপহৃত বনজীবীদের কয়েকজন সহযোগী এবং তাদের মহাজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে ওই জেলেদের অপহরণ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, অপহৃত প্রত্যেক বনজীবীকে মুক্ত করতে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

বনজীবীদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনের অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বর থেকে যোগাযোগ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেয়। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেও মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দস্যুদের বিরুদ্ধে। টাকা পরিশোধের পরে অনেককে বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ’ ওরফে ‘আলিম বাহিনী’, ‘নানা ভাই’ ওরফে ‘ডন’ বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রধারী বনদস্যুরা সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া দুনেয়ার মুখ, ধান্যখালি খাল, মামুন্দ নদীর মাথাভাঙ্গা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। পরে তাদের পরিবার/মহাজনদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পান। দুজন এখনও নিখোঁজ।

বনজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনের বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও কার্যত দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের বনজীবী অপহরণের বিষয় এখনও কোনো ভুক্তভোগীর পরিবার বা স্বজনরা তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।